আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইসরাইলের আসন্ন নির্বাচনের আগে দেশটির শত্রুরা হামলা চালাতে পারে বলে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সতর্কবার্তার পর তাঁর বিরুদ্ধে জনগণের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানোর অভিযোগ তুলেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সামরিক ঘাঁটি তেল নোফে ধারণ করা এক ভিডিও বার্তায় নেতানিয়াহু বলেন, নির্বাচনের আগে ইসরাইলের শত্রুরা হামলার চেষ্টা করতে পারে। তবে সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেননি।
নেতানিয়াহুর ওই বক্তব্যের পর লাপিদ জরুরি নিরাপত্তা বৈঠকের দাবি জানান। পরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি বলেন, জনগণকে আতঙ্কিত করার কোনো কারণ নেই। একই সঙ্গে নিরাপত্তা হুমকি পেশাদার ও দায়িত্বশীলভাবে মোকাবিলা করার আহ্বান জানান তিনি।
লাপিদ অভিযোগ করেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার আগে দেওয়া সতর্কবার্তাগুলো নেতানিয়াহু উপেক্ষা করেছিলেন। অথচ এবার নির্বাচনের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে তিনি জনগণের মধ্যে ভয় ছড়ানোর মতো বক্তব্য দিচ্ছেন।
লাপিদ আরও বলেন, ইসরাইলি সামরিক ঘাঁটি নির্বাচনী প্রচারের ভিডিও তৈরির জায়গা নয়। তবে তিনি জানান, নিরাপত্তা বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে গোপনীয়তা বজায় রাখবেন।
নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানিয়েছে, বৈঠকে নির্বাচনের আগে বিভিন্ন ফ্রন্টে সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে গোয়েন্দা সতর্কতা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে আরও নির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
নেতানিয়াহু তাঁর ভিডিও বার্তায় বলেন, তাঁদের কাছে এমন তথ্য রয়েছে যে নির্বাচনের আগে শত্রুরা হামলার চেষ্টা করতে পারে। তিনি সম্ভাব্য হামলাকারীদের উদ্দেশে ইসরাইলের পাল্টা জবাবের হুঁশিয়ারিও দেন।
এদিকে বিরোধী দলগুলোর কয়েকজন নেতাও নেতানিয়াহুর বক্তব্যের বিষয়ে নিরাপত্তা তথ্য প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন। গাদি আইজেনকটের দলও লাপিদকে সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকি সম্পর্কে অবহিত করার দাবি জানিয়েছে।
আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরাইলে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচন সামনে রেখে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের পাশাপাশি নেতানিয়াহুর বক্তব্যের উদ্দেশ্য নিয়েও বিরোধীদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে।