খসরু মৃধা:
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গাজীপুর-৫ আসন (কালীগঞ্জ-বাড়িয়া) ও সংশ্লিষ্ট এলাকার ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময়ের অংশ হিসেবে কালীগঞ্জ পৌরসভায় নির্বাচনী প্রচারণা ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
কালীগঞ্জ উপজেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে শুরু হয়ে কালীগঞ্জ বাজারের ডাচ-বাংলা ব্যাংকের সামনে এ পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জনতার দলের কালীগঞ্জ উপজেলা শাখার আহ্বায়ক মো. রফিকুল ইসলাম (রফিক) এবং সঞ্চালনায় ছিলেন সদস্য সচিব মো. নোমান।
পথসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জনতার দলের মহাসচিব ও গাজীপুর-৫ আসনের সম্ভাব্য সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী জননেতা আজম খান।
বক্তব্যে আজম খান বলেন,
“আমি জনতার দলের মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। জনগণের ভালোবাসায় যদি আমি নির্বাচিত হই, তবে কালীগঞ্জের মানুষের দীর্ঘদিনের কষ্ট লাঘবে সর্বাত্মকভাবে কাজ করবো।”
তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, কালীগঞ্জের রাস্তাঘাটের ভোগান্তি দূর করা হবে এবং বাজারের ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তাহীনতা দূর করা হবে। দোকানে চুরি ও ডাকাতি রোধে কালীগঞ্জের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জাপানি প্রযুক্তির আধুনিক সিসি ক্যামেরা স্থাপন ও সচল রাখা হবে। এরপরও যদি কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চুরি বা ডাকাতির ঘটনা ঘটে, তবে ‘কালীগঞ্জ কল্যাণ ট্রাস্ট’-এর অর্থায়নে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
আজম খান আরও বলেন, “কালীগঞ্জ থেকে ঢাকা এবং গাজীপুর জেলার বিভিন্ন এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করতে পর্যাপ্ত যানবাহনের ব্যবস্থা করা হবে। হিন্দু ও খ্রিষ্টান ভাই-বোনসহ সকল ধর্মের মানুষের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।”
তিনি অসহায়, দরিদ্র ও চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত মানুষের জন্য উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য মেধা বৃত্তি চালু এবং যুব সমাজকে অবক্ষয় থেকে বাঁচাতে কালীগঞ্জকে একটি মাদকমুক্ত উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা দেন।
বাল্যবিবাহ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বাল্যবিবাহ রোধে কালীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।”
পথসভায় আবেগঘন কণ্ঠে আজম খান বলেন, “আমি আপনাদের কারো ভাই, কারো ছেলে, কারো ভাতিজা বা নাতি—সবচেয়ে বড় কথা আমি আপনাদের কালীগঞ্জেরই সন্তান। একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আপনাদের দ্বারপ্রান্তে ভোটের যুদ্ধে নেমেছি।”
তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, নির্বাচিত হলে কালীগঞ্জে চাঁদাবাজির কোনো স্থান থাকবে না। কালীগঞ্জকে একটি আধুনিক, শান্তিপূর্ণ ও উন্নত উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন।
সবশেষে তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনতার দলের ‘কলম’ মার্কায় ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করার আহ্বান জানান এবং বলেন, “জয় হবে কালীগঞ্জের শান্তিপ্রিয় ও শান্তিকামী মানুষের।”