মোশাররফ হোসেন জসিম পাঠান:
নেত্রকোনা জেলার আটপাড়া উপজেলার শুনই ইউনিয়নের ইছাইল গ্রামে গৃহবধূ নির্যাতন, যৌতুকের দাবিতে হামলা এবং নানা অপকর্মে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে মোঃ শাহাদত মিয়ার বিরুদ্ধে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই শাহাদত মিয়া মাদক, জুয়া ও নারী ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এবং এসব কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়ায় তার স্ত্রী মোছাঃ মাহফুজা আক্তারের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আটপাড়া উপজেলার ইছাইল গ্রামের মোঃ সবুজ মিয়ার ছেলে মোঃ শাহাদত মিয়ার সঙ্গে প্রায় তিন বছর আগে একই এলাকার মাহফুজা আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের পর প্রথম দিকে তাদের সংসার ভালোভাবেই চলছিল। কিন্তু এক বছরের মাথায় শাহাদতের আচরণে পরিবর্তন দেখা দেয়। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ধীরে ধীরে মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন এবং জুয়া ও নারী ব্যবসাসহ বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন।
ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ, স্ত্রী মাহফুজা আক্তার এসব কর্মকাণ্ডে বাধা দিলে শাহাদত প্রায়ই তাকে মারধর করতেন। একপর্যায়ে চুলের মুঠি ধরে ঘর থেকে বের করে দেওয়া হয় তাকে। নিরুপায় হয়ে মাহফুজা বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেন। পরে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপ ও সালিশের মাধ্যমে পুনরায় স্বামীর সংসারে ফিরে আসেন তিনি।
কিন্তু সংসারে ফেরার পরও নির্যাতনের মাত্রা কমেনি বলে অভিযোগ উঠেছে। বরং স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়ি ও আত্মীয়-স্বজন মিলে মাহফুজার ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চালাতে থাকেন। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, বিভিন্ন সময় কৌশলে ও প্রলোভন দেখিয়ে মাহফুজার পরিবারের কাছ থেকে প্রায় ৩ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এরই মধ্যে মাহফুজা আক্তারের কোলজুড়ে একটি সন্তান জন্ম নেয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, সন্তান জন্মের পরও শাহাদত পরিবারের দায়িত্ব পালন না করে অসামাজিক কর্মকাণ্ডেই জড়িয়ে থাকেন। শিশুটির প্রতিও তিনি কোনো খোঁজখবর নেন না বলে অভিযোগ করেন শ্বশুরবাড়ির লোকজন।
ভুক্তভোগী পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৬ মে ২০২৬ রাতে মাহফুজা আক্তারের ওপর ফের নির্যাতন চালানো হয়। যৌতুকের জন্য টাকা দাবি করা হলে তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এ নিয়ে তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে আটপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
এ ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। বিষয়টি জানতে পেরে ঢাকা থেকে প্রকাশিত কয়েকটি জাতীয় দৈনিকের সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করেন। এ সময় স্থানীয় এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বললে তারা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে উভয় পরিবারের মধ্যে টাকা-পয়সা সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জের ধরেই এ হামলা ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে।
এ ঘটনায় মাহফুজা আক্তারের বাবা বাদী হয়ে আটপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে মোঃ শাহাদত মিয়াসহ চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং আরও অজ্ঞাতনামা ৩ থেকে ৪ জনকে আসামি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন, তারা বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। এ ঘটনায় জেলা পুলিশ সুপারসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন পরিবার ও স্থানীয় সচেতন মহল।
স্থানীয়দের দাবি, অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে এলাকায় শান্তি ফিরবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের নির্যাতনের ঘটনা কমে আসবে।