মোঃ শামীম হোসেন শিকদার:

টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে বান্দরবান-থানচি সড়কের নীলগিরি ও নীল দিগন্ত পর্যটনকেন্দ্রের মধ্যবর্তী এলাকায় পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে সোমবার (৬ জুলাই) সকাল থেকে থানচি উপজেলার সঙ্গে বান্দরবান সদর উপজেলার সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রবল বৃষ্টির কারণে পাহাড়ের বিশাল অংশের মাটি ধসে সড়কের ওপর এসে পড়ে। ফলে ওই সড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং যাত্রীদের দুর্ভোগে পড়তে হয়।
বান্দরবানে টানা মুষলধারে বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার দিকে ধাবিত হচ্ছে। তীব্র স্রোতে নদীগুলো ফুঁসে উঠেছে। নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা এবং পাহাড়ধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে আগামী ১০ জুলাই পর্যন্ত জেলার সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। নৌযান চলাচলও বন্ধ রাখা হয়েছে। সবাইকে প্রয়োজন ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় না যাওয়ার এবং প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও জেলা প্রশাসনের সদস্যরা যৌথভাবে উদ্ধার ও সড়ক পরিষ্কারের কাজ শুরু করেন। ভারী যন্ত্রপাতির সাহায্যে সড়কে জমে থাকা মাটি সরিয়ে দ্রুত যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।
বান্দরবানের জেলা প্রশাসক সানিউল ফেরদৌস বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, টানা বর্ষণের কারণে পাহাড়ধসের ঘটনায় সাময়িকভাবে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে এবং যত দ্রুত সম্ভব যান চলাচল পুনরায় চালু করা হবে।
এদিকে, আবহাওয়া অনুকূলে না থাকায় এবং ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় পাহাড়ধসের ঝুঁকি আরও বেড়েছে। এ অবস্থায় পাহাড়ের পাদদেশ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পাশাপাশি প্রয়োজন ছাড়া পাহাড়ি সড়কে যাতায়াত না করার আহ্বান জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।