নিজস্ব প্রতিবেদক:
চট্টগ্রামের জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাসুদ আলম ও রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলামকে উদ্দেশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি সতর্কবার্তা দিয়েছেন আলোচিত রায়হান আলম। প্রতিদ্বন্দ্বী একটি গ্রুপ তাকে ফাঁসাতে রাতে দায়িত্বে থাকা দুই পুলিশ সদস্যকে হত্যার পরিকল্পনা করছে—এমন দাবি করে তিনি ওই বার্তা দিয়েছেন।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নিজের ফেসবুক আইডি থেকে পোস্টটি দেন আত্মগোপনে থাকা রায়হান।
ফেসবুক পোস্টে রায়হান দাবি করেন, তার প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রুপ তাকে বড় কোনো অপরাধে ফাঁসানোর জন্য ষড়যন্ত্র করছে। তার দাবি, ওই গ্রুপ রাতে দায়িত্বে থাকা দুই পুলিশ সদস্যকে হত্যার পরিকল্পনা করেছে। এ ঘটনা নোয়ান বাগিচা অথবা পূর্ব রাউজান এলাকায় ঘটানো হতে পারে বলেও তিনি পোস্টে উল্লেখ করেন।
রায়হান আরও দাবি করেন, বিষয়টি কোনো বানোয়াট তথ্য নয়। ‘আজিজ’ নামের এক ব্যক্তি ও একটি ডাকাত গ্রুপ মিলে এ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। একই সঙ্গে তার নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চাঁদা দাবি এবং তার ছবি দিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ প্রোফাইল খুলে সাধারণ মানুষকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।
এ বিষয়ে রাউজান থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, রায়হানের ফেসবুক পোস্টটি পুলিশের নজরে এসেছে। রাউজানের বিভিন্ন এলাকায় রাতের টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। যে কোনো মূল্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার কথা জানান তিনি।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সাড়া পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, রায়হান আলমের বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজি ও অস্ত্র আইনে ১৫টি মামলা থাকার কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিভিন্ন সময় তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও সহিংসতার অভিযোগও এসেছে। সাম্প্রতিক সময়েও রাউজানে সংঘটিত সহিংসতার ঘটনায় তার নাম আলোচনায় এসেছে। তবে এসব অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা আদালতের বিচার ও তদন্তের বিষয়।
এর আগে আগস্টেও রায়হান আলমের ফেসবুক পোস্ট ঘিরে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারকে উদ্দেশ করে তার বিভিন্ন বক্তব্য সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল।