মো. ইমরান মুন্সি:
পবিত্র ঈদ উপলক্ষে ঝালকাঠি-১ আসনের রাজাপুর ও কাঠালিয়া উপজেলার অসহায় ও দুস্থ মানুষের সহায়তায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে বরাদ্দ দেওয়া ১০ লাখ টাকা বিতরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বরাদ্দের অর্থ কীভাবে ব্যয় করা হয়েছে, কতজন উপকারভোগী সহায়তা পেয়েছেন এবং অবশিষ্ট অর্থের হিসাব কী—এসব বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। এ বিষয়ে তথ্য জানতে গিয়ে সাংবাদিককে মামলার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাজাপুর ও কাঠালিয়া এলাকায় ঈদ উপলক্ষে সরকারি সহায়তার অর্থ বিতরণ নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা আলম মিতুর অনুকূলে বরাদ্দ করা ১০ লাখ টাকা বিতরণের পূর্ণাঙ্গ তথ্য জানতে চেয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিকেরা। তবে বরাদ্দের অর্থ কীভাবে বণ্টন করা হয়েছে, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যে অসংগতি রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অনুদান বিতরণের বিষয়ে জেলা এনসিপির তৎকালীন আহ্বায়ক মো. মান্না ইসলাম জানান, অর্থ বিতরণের আগেই তিনি পদত্যাগ করায় এ বিষয়ে তাঁর জানা নেই। কাঠালিয়া উপজেলা এনসিপি নেতা কালু হাওলাদার বলেন, সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা আলম মিতু জামায়াতের সমর্থনে নির্বাচিত হওয়ায় বরাদ্দের বিষয়ে জামায়াতে ইসলামী ভালো বলতে পারবে।
অন্যদিকে, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাস্টার মজিবুর রহমান প্রথমে ঈদের কোনো বরাদ্দ বা অনুদান পাওয়ার কথা অস্বীকার করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি দলীয়ভাবে প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা পাওয়ার কথা জানান এবং দাবি করেন, ওই অর্থ জনপ্রতি এক হাজার ৫০০ টাকা করে বিতরণ করা হয়েছে।
একই দলের নেতা নাসিরুদ্দিনের দাবি, কাঠালিয়ায় তিন লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। তবে এ দাবির পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাইযোগ্য কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। দুই উপজেলার অর্থ বিতরণ নিয়ে পাওয়া এসব বক্তব্যে বরাদ্দের পুরো ১০ লাখ টাকার হিসাব স্পষ্ট হয়নি। ফলে অবশিষ্ট অর্থের ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
অনুদানপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের তালিকার বিষয়ে জামায়াত নেতারা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) দপ্তরের কথা উল্লেখ করেন। কাঠালিয়া উপজেলা পিআইও মো. যোবায়ের হোসেন বলেন, তাঁর কাছে শুধু মাস্টাররোল জমা দেওয়া হয়েছে। তালিকা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাই তৈরি করেছেন। বাস্তবে কাকে টাকা দেওয়া হয়েছে বা হয়নি, তা তাঁরাই বিস্তারিত বলতে পারবেন।
এদিকে বরাদ্দের অর্থের হিসাব জানতে গিয়ে সাংবাদিককে পুলিশি হয়রানি ও মামলার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রতিবেদকের দাবি, সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা আলম মিতুর বক্তব্য জানতে চাওয়া হলে তিনি সরাসরি বক্তব্য না দিয়ে কাঠালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু নাসের রায়হানকে দিয়ে সাংবাদিকদের ফোন করান। পরে তাঁদের থানায় ডেকে সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য চাপ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
জাতীয় দৈনিক স্বাধীন সংবাদ-এর সম্পাদক ও প্রকাশক আনোয়ার হোসেন আকাশ কাঠালিয়া থানার ওসি আবু নাসের রায়হানকে ফোন করলে সাংবাদিক মো. ইমরান মুন্সির বিরুদ্ধে মামলা দেওয়ার কথা বলা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ওসি আবু নাসের রায়হান জানান, এখনো কোনো মামলা করা হয়নি। মামলা করা হলে কোন বিষয়ে করা হবে, তা তখন বলা যাবে। তিনি আরও দাবি করেন, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মামলা করার কথা বলেছেন।
এদিকে স্থানীয়দের মধ্যে অভিযোগ উঠেছে, সরকারি বরাদ্দের অর্থ প্রকৃত অসহায় ও দুস্থদের পরিবর্তে দলীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে বিতরণ করা হয়ে থাকতে পারে। তবে এ অভিযোগের স্বাধীন যাচাই এবং উপকারভোগীদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা পাওয়া না যাওয়ায় বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সরকারি অনুদানের অর্থের সঠিক ব্যবহার, উপকারভোগীদের তালিকা প্রকাশ এবং বরাদ্দের পূর্ণাঙ্গ হিসাব নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলার হুমকির অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশের ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।