চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সদর দপ্তর ভূজপুরে স্থাপনের প্রতিবাদে উপজেলার তিন ইউনিয়নের আংশিক এলাকায় ৪৮ ঘণ্টার হরতাল পালিত হচ্ছে। ২৬ জুলাই সকাল ৬টা থেকে শুরু হওয়া এ হরতাল সোমবার (২৭ জুলাই) সকাল ৬টা পর্যন্ত চলমান ছিল।
হরতালের ডাক দিয়েছে ১ নম্বর বাগান বাজার, ২ নম্বর দাঁতমারা ও ৩ নম্বর নারায়ণহাট ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণের পক্ষে আংশিক অংশ এবং ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা বাস্তবায়ন সমন্বয় কমিটি।
আন্দোলনকারীদের দাবি, নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সদর দপ্তর ভূজপুর থানা সদরে স্থাপনের পরিবর্তে উপজেলার মধ্যবর্তী ও যোগাযোগের দিক থেকে যৌক্তিক কোনো স্থানে স্থাপন করতে হবে। এ দাবিতে তারা ৪৮ ঘণ্টার হরতাল কর্মসূচি পালন করছেন।
হরতালের দ্বিতীয় দিন সোমবার সকাল থেকেই খাগড়াছড়ি-রামগড়-ফেনী সড়কের বাগান বাজার থেকে কয়লা বাজার পর্যন্ত এবং ফটিকছড়ি-নারায়ণহাট-হেয়াকো সড়কের ঠেকার দোকান থেকে হেয়াকো বাজার পর্যন্ত কোনো ধরনের যানবাহন চলাচল করেনি।
হরতাল সমর্থকেরা রামগড়-ফেনী সড়কের বাগান বাজার অংশের বিভিন্ন স্থানে গাছের গুঁড়ি, ধানের বস্তা ও ট্রাক দিয়ে সড়ক অবরোধ করেন। এতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়।
এদিকে, সদর দপ্তর ভূজপুরে স্থাপনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে হরতাল পালিত হলেও এর বিরোধিতা করে ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার ভূজপুর, হারুয়ালছড়ি ও সুয়াবিল ইউনিয়নের শত শত মানুষ বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছেন।
রোববার (২৬ জুলাই) ভূজপুর ন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে হরতালবিরোধী এ প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য দেন হারুয়ালছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন চৌধুরী, ভূজপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান চৌধুরী শিপন, হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা মাওলানা জুনায়েদ বিন জালাল, ভূজপুর জমিয়তে এহইয়াউচ্ছুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মাওলানা হোসাইন মোহাম্মদ শাহজাহান ইসলামাবাদী, ভূজপুরের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও জামায়াতে ইসলামী নেতা মাওলানা শফিউল আলম নুরীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতারা।
সমাবেশে বক্তারা নবগঠিত ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সদর দপ্তর ভূজপুরে স্থাপনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান। তারা এ সিদ্ধান্তের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
পরে সমাবেশ থেকে একটি বিশাল হরতালবিরোধী মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি ভূজপুরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা প্রতিষ্ঠার দাবি দীর্ঘদিনের। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পর নতুন উপজেলা ঘোষণাকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে একদিকে যেমন আনন্দ রয়েছে, অন্যদিকে সদর দপ্তরের অবস্থান নিয়ে তৈরি হয়েছে মতবিরোধ।
এক পক্ষ সদর দপ্তর ভূজপুরে স্থাপনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাচ্ছে। অন্য পক্ষ উপজেলার তিন ইউনিয়নের মধ্যবর্তী ও যোগাযোগের দিক থেকে সুবিধাজনক স্থানে সদর দপ্তর স্থাপনের দাবি জানিয়ে আন্দোলন করছে।
সদর দপ্তরের অবস্থান নিয়ে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিতে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।