ফ্রান্সে বিক্ষোভ-সহিংসতা নিয়ে ট্রাম্পের কটাক্ষ, ‘বিপ্লবে যোগ দিই’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে ফ্রান্সে চলমান বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সহিংসতা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের খবর পাওয়া গেছে। দেশটির বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ পরিস্থিতি নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফ্রান্সে গিয়ে ‘বিপ্লবে যোগ দেওয়ার’ কথা বলে তিনি দেশটির পরিস্থিতি নিয়ে কটাক্ষ করেন।

ফ্রান্সের চলমান অস্থিরতা নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, ফ্রান্স বিপ্লবের জন্য উপযুক্ত জায়গা বলে মনে হচ্ছে। তাঁর বক্তব্যে দেশটির পরিস্থিতি নিয়ে বিদ্রূপের সুর ছিল।

প্রায় এক সপ্তাহ ধরে চলা ছাত্র আন্দোলনের পর রোববার সকালে ফ্রান্সের বিভিন্ন এলাকার রাস্তাঘাটে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের চিহ্ন দেখা যায়। আগামী ছয় মাস পর দেশটিতে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর উত্তরসূরি নির্বাচনে ভোট হওয়ার কথা রয়েছে।

এদিকে, ফ্রান্সের সহিংস পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স। দেশটির অভিবাসন নীতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ফ্রান্সসহ পশ্চিমা দেশগুলো অভিবাসীদের আত্মীকরণ ও সামাজিক সংহতির বিষয়গুলো যথাযথভাবে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ভ্যান্স দাবি করেন, বৈচিত্র্য ও সহানুভূতির কথা বলতে গিয়ে পশ্চিমা উদারপন্থীরা অভিবাসন এবং সামাজিক সংহতির মৌলিক প্রশ্নগুলো উপেক্ষা করেছেন। এর পরিণতি সম্পর্কে আগেই সতর্ক করা হয়েছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ফ্রান্সের ঐতিহাসিক স্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ ভবনগুলোতে হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে ভ্যান্স বলেন, দেশটির চলমান অস্থিরতার অবসান হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতেও এ পরিস্থিতির প্রভাব পড়তে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভ, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ

নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে অসন্তোষের জেরে শনিবার ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ হয়। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ শুরু হলে পরিস্থিতি সহিংস রূপ নেয়। বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভে প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার মানুষ অংশ নেন। অন্যদিকে, আন্দোলনে অংশ নেওয়া সিজিটি ইউনিয়নের দাবি, বিক্ষোভকারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৮ লাখ।

বিক্ষোভের সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ও আতশবাজি নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে।

প্যারিসের মেয়র ইমানুয়েল গ্রেগোইরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কথা তুলে ধরেন। মুখোশধারী একদল তরুণ রাস্তায় রাখা গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন এবং বিভিন্ন দোকানপাটে লুটপাট চালান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

টাউন হল ও পর্যটন কার্যালয়ে হামলা

ফ্রান্সের স্থানীয় প্রশাসনের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, লিমোজ শহরে ১৪০ বছরের বেশি পুরোনো একটি টাউন হলে মুখোশধারী বিক্ষোভকারীরা প্রবেশ করে আগুন ধরিয়ে দেন। এতে ভবনটি প্রায় সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।

এ ছাড়া মার্সেই ও লিল শহরের দুটি টাউন হলে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। বোর্দো শহরের একটি পুলিশ ফাঁড়িতেও হামলা চালানো হয়। অন্যদিকে, লিয়োঁ শহরের একটি পর্যটন কার্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দেন বিক্ষোভকারীরা।

এ পরিস্থিতিতে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সহিংসতা, ভাঙচুর ও লুটপাটে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনার ঘোষণা দিয়েছেন।

তিনি বলেন, যারা প্রশাসনিক কার্যালয়, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও টাউন হলে হামলা, ভাঙচুর এবং লুটপাট চালিয়েছেন, তাদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে এবং শাস্তি দেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *