আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে কেন্দ্র করে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে অঞ্চলটিতে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের জন্য নতুন নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কায় জর্ডান, ইসরায়েল, ইরাকসহ একাধিক দেশে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস নাগরিকদের প্রয়োজন হলে দ্রুত মধ্যপ্রাচ্য ত্যাগের প্রস্তুতি নিতে আহ্বান জানিয়েছে।
শনিবার প্রকাশিত নিরাপত্তা বার্তায় দূতাবাসগুলো জানায়, মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি বর্তমানে অত্যন্ত স্পর্শকাতর। যেকোনো সময় অপ্রত্যাশিত উত্তেজনা তৈরি হতে পারে। তাই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন, ভ্রমণ পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা এবং জরুরি পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সতর্কবার্তায় আরও বলা হয়েছে, আকাশসীমা বন্ধ হয়ে যাওয়া, বিমান চলাচলে বিঘ্ন কিংবা আকস্মিক ভ্রমণ জটিলতার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। এ কারণে যারা এখন মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থান করছেন, তাদের নিরাপদে অঞ্চল ছাড়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে বলা হয়েছে।
একই ধরনের সতর্কতা জেরুজালেম, আম্মান, বাগদাদ, কায়রোসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের ওয়েবসাইটেও প্রকাশ করা হয়েছে। পাশাপাশি যারা বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে রয়েছেন, তাদের অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ বা ট্রানজিট এড়িয়ে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
মার্কিন কর্তৃপক্ষের মতে, ইরানের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে। সতর্কবার্তায় উল্লেখ করা হয়েছে, ইরান পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই বিভিন্ন স্থানে হামলা চালানোর সক্ষমতা দেখিয়েছে এবং অতীতে লক্ষ্যবস্তু ছিল না—এমন এলাকাও ঝুঁকির বাইরে নয়।
দূতাবাসগুলোর ভাষ্য, অতীতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মার্কিন কূটনৈতিক স্থাপনা হামলার শিকার হয়েছে। তাই ভবিষ্যতে ইরান বা ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো মার্কিন নাগরিক, কূটনৈতিক স্থাপনা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বা যুক্তরাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট অন্যান্য স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে। কোনো দেশে আগে হামলা না হওয়ার অর্থ এই নয় যে সেটি ভবিষ্যতেও নিরাপদ থাকবে।
জর্ডানে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের দেশটির সামরিক ঘাঁটির আশপাশ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বড় ধরনের জনসমাগম ও বিক্ষোভ থেকে দূরে থাকা, স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলা, গণমাধ্যমের সর্বশেষ তথ্য অনুসরণ করা এবং ভ্রমণ পরিকল্পনায় পরিবর্তন এলে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
তবে নিরাপত্তা সতর্কতা জারি হলেও মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসগুলোতে কনস্যুলার ও ভিসা সেবা স্বাভাবিকভাবে চালু রয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে নতুন নির্দেশনা দেওয়া হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।