মোঃ আনজার শাহ:-
কুমিল্লার বদলে যাচ্ছে বরুড়ার এখন দিনলিপি। নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে একের পর এক উদ্যোগে এই জনপদের চেনা ছবি বদলের পথে। গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমনের ঘোষণায় এলাকাবাসীর চোখে এখন নতুন বরুড়া গড়ার স্বপ্ন।
নিরাপত্তায় নতুন ভরসা: আদ্রায় পুলিশ ফাঁড়ি:
বরুড়া থানা থেকে আদ্রা ইউনিয়নের দূরত্ব প্রায় ১৯ কিলোমিটার। এই দীর্ঘ পথ পেরিয়ে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই মাদককারবারিরা পালানোর সুযোগ পেত, আর আইনি সেবা পেতে হিমশিম খেতেন সাধারণ মানুষ। এই দুর্ভোগ ঘোচাতে ১৩ নম্বর আদ্রা ইউনিয়নে নতুন পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। মন্ত্রীর ডিউ লেটারের ভিত্তিতে এগিয়ে চলেছে প্রক্রিয়া।
মন্ত্রীর সহকারী সচিব মোয়াজ্জেম হোসেন কল্লোল জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে উপযোগিতা যাচাইয়ের তদন্তের কাজ চলছে। মাদকের বিস্তার রোধে এই ফাঁড়ি অত্যন্ত জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
স্বাস্থ্যসেবায় নতুন দিগন্ত: ১৫১ শয্যার হাসপাতাল:
স্বাস্থ্যসেবার মানচিত্রেও আসছে বড় পরিবর্তন। বরুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫১ শয্যার হাসপাতালে উন্নীত করার ঘোষণা দিয়েছেন মন্ত্রী। দেশের যে দশটি হাসপাতালকে বিশেষভাবে গড়ে তোলা হবে, বরুড়া তার অন্যতম। সেখানে থাকবে আইসিইউ, সিসিইউ, এইচডিও ও ফিজিওথেরাপির মতো আধুনিক সুবিধা।
ইতিমধ্যে সোনাইমুড়িতে ১৩ সেপ্টেম্বর এ কে এম আবু তাহের ২০ শয্যার একটি নতুন হাসপাতালও উদ্বোধন করা হবে। যা এলাকাবাসীর জন্য চিকিৎসাসেবা আরও সহজলভ্য করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সড়কে সংযোগের নতুন সেতুবন্ধ
যোগাযোগ ব্যবস্থায় হাতে নেওয়া হয়েছে দুটি বড় প্রকল্প। ২৪ ফুট প্রস্থের লালমাই–ঝলম সড়কটি লালমাই থেকে বরুড়া হয়ে ঝলম পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। আর উত্তর খোশবাস–কার্জন খাল–দক্ষিণ বরুড়া সড়ক, যা আড্ডা–জগতপুর রাস্তা নামেও পরিচিত, উপজেলার উত্তর ও দক্ষিণ প্রান্তকে এক সুতোয় বাঁধবে। পাশাপাশি সব বড় সড়কের উন্নয়নকাজ এখন প্রক্রিয়াধীন।
শিক্ষা, ক্রীড়া ও কর্মসংস্থানের প্রত্যাশা
তরুণদের স্বপ্ন পূরণে রয়েছে নানা পরিকল্পনা। বরুড়ায় ভাষা ইনস্টিটিউট চালুর উদ্যোগ মন্ত্রী নিজ হাতে নিয়েছেন। বেকারত্ব ঘোচাতে টেকনিক্যাল সেন্টার স্থাপন, নতুন খেলার মাঠ তৈরি এবং একাধিক উন্নত মানের স্কুলভবন নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
মন্ত্রীর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা তাজিরুল ইসলাম বলেন, বরুড়ায় একটি মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণে মন্ত্রী মহোদয়ের প্রচেষ্টা চলছে, যাতে যুবসমাজ মাদক থেকে মুক্ত হয়ে খেলাধুলায় মনোযোগী হয়।
“এবার বরুড়া চিনবে বাংলাদেশ”
এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বরুড়া একটি মডেল উপজেলায় রূপ নেবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তাঁদের প্রত্যাশা, মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমনের নেতৃত্বে সুশাসন ও উন্নয়নের এই ধারা অব্যাহত থাকবে। সেই পথচলায় এলাকাবাসীও সংযত থেকে পাশে থাকতে প্রত্যয়ী।