মোঃআনজার শাহ
বরুড়ার উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষার মানোন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বরুড়ার সাবেক সংসদ সদস্য ও প্রবীণ রাজনীতিক অধ্যাপক মো. নুরুল ইসলাম মিলন। তিনি বলেন, শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন করলেই হবে না, বরুড়ার প্রতিটি স্কুল-কলেজে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা দেশ-বিদেশের যেকোনো প্রতিযোগিতায় নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ রাখতে পারে।
বরুড়া উপজেলা জনকল্যাণ সমিতি, ঢাকা-এর বার্ষিক সাধারণ সভা, নতুন কার্যকরী পরিষদের অভিষেক ও গুণীজন সম্মাননা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমনের প্রতি আনন্দ ও গর্ব প্রকাশ
অধ্যাপক মো. নুরুল ইসলাম মিলন বলেন, বরুড়া উপজেলা প্রতিষ্ঠার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এই জনপদ থেকে মন্ত্রিসভায় প্রতিনিধিত্বের সুযোগ খুব বেশি আসেনি। বর্তমান সরকারের গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন পূর্ণমন্ত্রী হওয়ায় তিনি বরুড়াবাসীর পক্ষ থেকে আনন্দ ও গর্ব প্রকাশ করেন।
মন্ত্রীর পরিবারের সঙ্গে নিজের দীর্ঘদিনের পরিচয়ের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, মন্ত্রীর পিতাও একজন সংসদ সদস্য ছিলেন এবং তিনি অত্যন্ত ভালো মানুষ ও নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ:
মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করে অধ্যাপক নুরুল ইসলাম মিলন বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় বরুড়া ও আশপাশের এলাকায় অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। চারদিক থেকে আক্রমণ ও প্রতিরোধের সেই দিনগুলো আজও তাঁর স্মৃতিতে অম্লান। তিনি কচুয়া, বরুড়া, চাঁদিনা ও কুমিল্লা সদরসহ বিস্তীর্ণ এলাকার মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও আল্লাহ তাঁকে বাঁচিয়ে রেখেছেন এবং আজও মানুষের মাঝে এসে কথা বলার সুযোগ দিয়েছেন এ জন্য তিনি মহান আল্লাহর কাছে অশেষ শুকরিয়া আদায় করেন।
জনকল্যাণ সমিতির প্রশংসা:
বরুড়া উপজেলা জনকল্যাণ সমিতির প্রশংসা করে তিনি বলেন, একটি ছোট উদ্যোগ থেকে শুরু হয়ে সংগঠনটি আজ একটি বৃহৎ ও পরিচিত সংগঠনে পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, “বরুড়ার মানুষ যেখানে থাকুন না কেন, তাঁদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও ঐক্য থাকা দরকার। জনকল্যাণ সমিতি সেই কাজটিই করছে। এ ধরনের একটি সংগঠন গড়ে ওঠায় আমি সত্যিই আনন্দিত ও কৃতজ্ঞ।”
“মন্ত্রী একা সব সমাধান করতে পারেন না, সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে”
মন্ত্রীর প্রতি বরুড়ার মানুষের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া প্রসঙ্গে অধ্যাপক নুরুল ইসলাম মিলন বলেন, একজন মন্ত্রী সব সমস্যার সমাধান একা করতে পারেন না। তাঁকে সহযোগিতা করতে হবে এবং এলাকার মানুষকেও নিজেদের উদ্যোগে এগিয়ে আসতে হবে। বরুড়ার উন্নয়নে সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক ও সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
তবে অনুষ্ঠানে তিনি মন্ত্রীর কাছে কোনো ব্যক্তিগত দাবি না তুলে বরুড়ার শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, “মাননীয় মন্ত্রীর কাছে আমার বেশি কিছু চাওয়ার নেই। আমার একটাই কথা বরুড়ার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে যেন সত্যিকারের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত হয়।”
শিক্ষার মান নিয়ে বিশদ বক্তব্য:
তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে প্রতিযোগিতা দিন দিন কঠিন হচ্ছে। দেশীয় প্রতিযোগিতার পাশাপাশি বিদেশিদের সঙ্গেও শিক্ষার্থীদের প্রতিযোগিতা করতে হচ্ছে। তাই শিক্ষার্থীরা যদি জ্ঞান, দক্ষতা ও নৈতিকতার দিক থেকে শক্তিশালী না হয়, তাহলে ভবিষ্যতে তারা কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন করতে পারবে না।
বরুড়ায় প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত বিপুলসংখ্যক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকরা যেন আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পাঠদান করেন এবং শিক্ষার্থীরা যেন প্রকৃত শিক্ষা লাভ করতে পারে, সে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে।
মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমনের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনার অনেক কাজ, অনেক ব্যস্ততা। কিন্তু বরুড়ার শিক্ষার বিষয়টি আপনি একটু বিশেষভাবে খেয়াল রাখবেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, শিক্ষা কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারা রয়েছেন। তাঁদেরও এ বিষয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।”
জীবনের স্মৃতিচারণ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ:
অনুষ্ঠানে নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সামাজিক জীবনের বিভিন্ন স্মৃতির কথাও তুলে ধরেন অধ্যাপক মো. নুরুল ইসলাম মিলন। তিনি বলেন, জীবনে অনেক সংগ্রাম ও প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছেন, তবে মানুষের ভালোবাসা ও সহযোগিতাই তাঁকে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি দিয়েছে।
বরুড়া উপজেলা জনকল্যাণ সমিতির নেতৃবৃন্দ ও উপস্থিত বরুড়াবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, এই সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করে বরুড়ার মানুষের কল্যাণে কাজে লাগাতে হবে। ঢাকায় অবস্থানরত বরুড়ার নাগরিকদের পারস্পরিক সহযোগিতা ও ঐক্যের মাধ্যমে এলাকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও সামাজিক উন্নয়নে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অধ্যাপক মো. নুরুল ইসলাম মিলনের বক্তব্যে শেষ পর্যন্ত যে বার্তাটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে, তা হলো বরুড়ার উন্নয়নের প্রকৃত ভিত্তি শুধু রাস্তাঘাট বা অবকাঠামো নয়; শিক্ষিত, দক্ষ ও মানবিক প্রজন্ম গড়ে তোলাই হতে পারে এই জনপদের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের সবচেয়ে শক্তিশালী পথ।