রাজধানীর কাকরাইলে অবস্থিত ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ভবনে আজ এক প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো বরুড়া উপজেলা জনকল্যাণ সমিতি, ঢাকা-র বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম), নতুন কার্যকরী পরিষদের অভিষেক অনুষ্ঠান এবং গুণীজন সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান। প্রবাসী ও ঢাকায় কর্মরত-বসবাসকারী বরুড়াবাসীর প্রাণের মিলনমেলায় পরিণত হওয়া এই আয়োজনে সমিতির গঠনতন্ত্রে একগুচ্ছ যুগোপযোগী ও দূরদর্শী সংশোধনী প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদিত হয়েছে, যা সংগঠনটির ভবিষ্যৎ কার্যক্রমকে আরও স্বচ্ছ, গতিশীল ও অংশগ্রহণমূলক করে তুলবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দ।
সংশোধিত গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সদস্যপদের পরিধি এখন আরও বিস্তৃত হয়েছে। সংগঠনের আদর্শ ও উদ্দেশ্যে বিশ্বাসী ন্যূনতম পঁচিশ বছর বয়সী ব্যক্তিরা এখন থেকে শুধু ঢাকা মহানগরী, ঢাকা ও গাজীপুর নয়, নারায়ণগঞ্জ জেলাতেও কর্মরত বা বসবাসকারী হলে সদস্য হতে পারবেন, তবে জন্মসূত্রে বা বৈবাহিক সূত্রে বরুড়া উপজেলার অধিবাসী হওয়ার শর্তটি বহাল থাকছে। নতুন সদস্য ফি নির্ধারণ করা হয়েছে নয়শত টাকা এবং তিন বছরের জন্য বার্ষিক এক হাজার দুইশত টাকা হারে মোট তিন হাজার ছয়শত টাকা চাঁদাসহ সর্বমোট চার হাজার পাঁচশত টাকা পরিশোধ করে আবেদন করলে যাচাই-বাছাই উপ-কমিটির সুপারিশ ও কার্যকরী পরিষদের অনুমোদন সাপেক্ষে মিলবে কাঙ্ক্ষিত সদস্যপদ। আজীবন সদস্যপদের জন্য ন্যূনতম চাঁদার পরিমাণও পনেরো হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে বিশ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও শৃঙ্খলাবদ্ধ করতে যুক্ত হয়েছে একগুচ্ছ নতুন বিধান। নির্বাচনের নির্ধারিত তারিখের তিন মাস পূর্বে চাঁদা পরিশোধ না করলে ভোটাধিকার থাকবে না বলে স্পষ্ট করা হয়েছে। কার্যকরী পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে হলে সমিতির আজীবন সদস্য হতে হবে এবং আজীবন সদস্য হিসেবে ন্যূনতম তিন বছর পূর্ণ হতে হবে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, সভাপতি পদে টানা দুই মেয়াদের বেশি কেউ দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না—এই বিধান নেতৃত্বে ধারাবাহিক নবায়ন ও নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বে উঠে আসার সুযোগ নিশ্চিত করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আরও ন্যায্য করতে গঠন করা হচ্ছে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট নির্বাচনী বোর্ড এবং একটি নতুন তিন সদস্যবিশিষ্ট আপিল বোর্ড, যা প্রার্থিতা সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ দ্রুততম সময়ে নিষ্পত্তি করবে।
সাংগঠনিক কাঠামো আরও শক্তিশালী করতে কার্যকরী পরিষদের সদস্যসংখ্যা বাড়িয়ে একত্রিশ জনে উন্নীত করা হয়েছে, যেখানে শিক্ষা, সমাজকল্যাণ, সাহিত্য ও সংস্কৃতি, শিল্প ও কৃষি, প্রচার, মহিলা, কর্মসংস্থান, আইনবিষয়ক, তথ্য ও প্রযুক্তি, ক্রীড়া এবং স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন বিষয়ে থাকছে পৃথক সম্পাদকীয় পদ। কার্যনির্বাহী পরিষদের সভা এখন থেকে প্রতি দুই মাস অন্তর নয়, বরং প্রতি মাসে একবার অনুষ্ঠিত হবে, যা সাংগঠনিক কার্যক্রমে আনবে নতুন গতি ও জবাবদিহিতা।
আর্থিক ব্যবস্থাপনায়ও এসেছে যুগান্তকারী পরিবর্তন। সমিতির নামে ঢাকার যেকোনো তফসিলি ব্যাংকে একাধিক চলতি, সঞ্চয়ী কিংবা মেয়াদি হিসাব খোলার সুযোগ রাখা হয়েছে, যা আগে শুধু একটি সঞ্চয়ী হিসাবে সীমাবদ্ধ ছিল। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে গঠন করা হচ্ছে বহিঃনিরীক্ষা উপ-কমিটি, অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা উপ-কমিটি এবং যাচাই-বাছাই উপ-কমিটি নামে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উপ-কমিটি, যা সংগঠনের প্রতিটি আর্থিক লেনদেনে আনবে নিñিদ্র স্বচ্ছতা। সাধারণ পরিষদের সভার কোরাম পূর্ণ হওয়ার শর্তও সহজ করা হয়েছে, যা সভা আয়োজনকে করবে আরও বাস্তবসম্মত ও কার্যকর।
দিনব্যাপী এই মনোরম আয়োজনে সমিতির নবনির্বাচিত কার্যকরী পরিষদের অভিষেক অনুষ্ঠিত হয় এবং সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা কৃতী ব্যক্তিদের প্রদান করা হয় বিশেষ সম্মাননা, যা অনুষ্ঠানে যোগ করে বাড়তি উৎসবের আমেজ। গঠনতন্ত্র সংশোধনী প্রস্তাবে স্বাক্ষরকারী নেতৃবৃন্দের মধ্যে ছিলেন তথ্য মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ও সভাপতি মো. শাহ আলম, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মনির হোসেন, আহ্বায়ক জেড এইচ জহির, সদস্য সচিব গোলাম মোহাম্মদ মোর্শেদ এবং সদস্য মো. তোফায়েল আহমদ, মো. সোলায়মান ও মো. নুরুল আমিন।
সংগঠনের নেতৃবৃন্দ আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, গঠনতন্ত্রের এই যুগান্তকারী সংশোধনী সমিতির কার্যক্রমকে আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও সময়োপযোগী করবে এবং বরুড়া উপজেলার প্রবাসী ও ঢাকা-কেন্দ্রিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে ঐক্য, ভ্রাতৃত্ববোধ ও কল্যাণমূলক কার্যক্রম আরও বেগবান হবে। আজকের এই এজিএম ও অভিষেক অনুষ্ঠান বরুড়াবাসীর হৃদয়ে সৃষ্টি করেছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা, যা আগামী দিনগুলোতে সংগঠনটিকে একটি আরও শক্তিশালী, গতিশীল ও মডেল প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলবে বলে দৃঢ় বিশ্বাস ব্যক্ত করেছেন উপস্থিত সবাই।