বাংলাদেশের পোশাকশিল্পে দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে এলপিপি

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক  ::

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাতের প্রতি দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে ইউরোপের অন্যতম শীর্ষ রিটেইল প্রতিষ্ঠান এলপিপি। একই সঙ্গে দেশের পোশাকশিল্পের প্রবৃদ্ধি ও সরবরাহ ব্যবস্থায় নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারিত্ব অব্যাহত রাখার প্রত্যয় জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

বাংলাদেশ থেকে পোশাক সোর্সিংয়ের ক্ষেত্রে এলপিপি বর্তমানে দেশের অন্যতম বড় ক্রেতা। প্রতিষ্ঠানটি বছরে ৭৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি মূল্যের পোশাক বাংলাদেশ থেকে সংগ্রহ করে এবং ৩৫০টিরও বেশি স্থানীয় প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করছে। এর মাধ্যমে দেশের পোশাকশিল্পে কর্মসংস্থান ও শিল্পোন্নয়নে প্রতিষ্ঠানটির গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।

সম্প্রতি আর্থিক জটিলতা নিয়ে নিজেদের অবস্থানও স্পষ্ট করেছে এলপিপি। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এফইএসের সঙ্গে পূর্ববর্তী ব্যবসায়িক সম্পর্কের কারণে তারা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। বর্তমানে এফইএসের কাছে এলপিপির পাওনা রয়েছে ৩৬ দশমিক ৫ বিলিয়ন টাকা, যা প্রায় ১ দশমিক ১ বিলিয়ন পোলিশ জ্লোটি।

তৃতীয় পক্ষের দায়ের কারণে উল্লেখযোগ্য আর্থিক চাপ তৈরি হলেও পরিস্থিতি স্বচ্ছতার সঙ্গে মোকাবিলা করছে বলে জানিয়েছে পোল্যান্ডভিত্তিক এ রিটেইল প্রতিষ্ঠান।

এলপিপির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ ধরনের আর্থিক চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক অংশীদারিত্বে কোনো প্রভাব ফেলবে না। বাংলাদেশ থেকে পোশাক সোর্সিং কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পাশাপাশি চুক্তি অনুযায়ী সব দায় যথাযথভাবে পালন এবং স্থানীয় পোশাক প্রস্তুতকারকদের সঙ্গে স্থিতিশীল ও স্বচ্ছ ব্যবসায়িক সম্পর্ক বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

এলপিপি বলেছে, বাংলাদেশ তাদের বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। এফইএস-সংক্রান্ত ঘটনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশের পোশাক খাতের স্থিতিশীলতা, দীর্ঘমেয়াদি সমৃদ্ধি এবং এ খাতে কর্মরত মানুষের স্বার্থকে তারা অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

ভবিষ্যতেও স্থানীয় প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ও শিল্পসংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে এলপিপি। এর মাধ্যমে পোশাকের সরবরাহ ব্যবস্থায় ধারাবাহিকতা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম ও বিনিয়োগ আরও সম্প্রসারণের সম্ভাবনাও রয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির মতে, বাংলাদেশে তাদের দীর্ঘমেয়াদি কার্যক্রম শুধু স্থানীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখছে না, বরং বৈশ্বিক পোশাকশিল্পের সরবরাহব্যবস্থাকেও আরও শক্তিশালী করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *