বান্দরবানের স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে উদ্বেগ, অভিযোগ তদন্ত করে জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি

মোঃ শামীম হোসেন সিকদার:

বান্দরবান সদর হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে জেলার স্বাস্থ্যসেবা খাত নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। জনসাধারণের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অভিযোগ ওঠায় হাসপাতালের প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা, দায়িত্ব বণ্টন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ক্ষমতার পরিধি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগের সত্যতা স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। তাঁদের মতে, স্বাস্থ্যসেবার মতো জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে কোনো ধরনের প্রশাসনিক জটিলতা, দায়িত্বের সীমা নিয়ে বিরোধ কিংবা ব্যক্তিগত মতবিরোধের কারণে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

বান্দরবান সদর হাসপাতাল জেলার সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। জেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষ নিয়মিত চিকিৎসা, জরুরি সেবা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবার জন্য এ হাসপাতালের ওপর নির্ভর করেন। বিশেষ করে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের কাছে সরকারি হাসপাতালই চিকিৎসা গ্রহণের প্রধান ভরসা। এমন পরিস্থিতিতে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হলে তা স্বাভাবিকভাবেই রোগী ও তাঁদের স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করে। তাই চিকিৎসাসেবা বন্ধের হুমকি দেওয়ার যে অভিযোগ উঠেছে, সেটিকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

অভিযোগ উঠেছে, বান্দরবানের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় প্রভাব বিস্তার, প্রশাসনিক জটিলতা এবং একটি কথিত সিন্ডিকেটের তৎপরতা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। এরই মধ্যে সিভিল সার্জন কার্যালয় ঘেরাও এবং কার্যালয়ে তালা দেওয়ার ঘটনা ঘিরে পরিস্থিতি নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এসব ঘটনার পেছনে কী কারণ রয়েছে, কারা জড়িত এবং হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা বন্ধের হুমকির অভিযোগের সঙ্গে এসব ঘটনার কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তবে এসব অভিযোগ ও ঘটনার মধ্যে কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা তদন্তের আগে নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য, প্রয়োজনীয় নথিপত্র এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত পরিস্থিতি স্পষ্ট করা জরুরি।

একজন প্রধান হিসাবরক্ষকের প্রশাসনিক ক্ষমতা কতটুকু?

হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে একজন প্রধান হিসাবরক্ষকের দায়িত্ব ও ক্ষমতার সীমা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। একজন হিসাবরক্ষকের দায়িত্ব সাধারণত আর্থিক হিসাব সংরক্ষণ, বিল-ভাউচার যাচাই, অর্থসংক্রান্ত নথিপত্র প্রস্তুত এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত থাকে। তবে কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানে তাঁর দায়িত্ব ও ক্ষমতার সুনির্দিষ্ট পরিধি সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান, দায়িত্ব বণ্টন এবং দাপ্তরিক আদেশের ওপর নির্ভর করে। সে কারণে বান্দরবান সদর হাসপাতালের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার প্রকৃত দায়িত্ব ও ক্ষমতা কী, তা সরকারি নথিপত্রের ভিত্তিতে যাচাই করা প্রয়োজন।

কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী তাঁর দায়িত্বের বাইরে গিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়ার চেষ্টা করেছেন কি না, কিংবা চিকিৎসাসেবা বন্ধের হুমকির অভিযোগের পেছনে অন্য কোনো প্রশাসনিক বিরোধ রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়া উচিত। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রচলিত বিধিবিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য গ্রহণ করাও ন্যায়সংগত তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এতে একদিকে যেমন প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন করা সম্ভব হবে, অন্যদিকে তেমনি অযাচিত অভিযোগ বা ভুল বোঝাবুঝির সুযোগও কমবে।

স্বাস্থ্যসেবা একটি জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম। হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং প্রশাসনিক দায়িত্বে নিয়োজিত প্রত্যেকের কাজের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত রোগীদের যথাসময়ে সেবা নিশ্চিত করা। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সঙ্গে প্রশাসনিক বিরোধ দেখা দিলে তা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নিয়ম অনুসারে সমাধান করতে হবে। এমন বিরোধের কারণে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হলে তার প্রভাব সরাসরি সাধারণ মানুষের ওপর পড়ে। তাই হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ সমস্যা সমাধানে দায়িত্বশীল আচরণ এবং কার্যকর প্রশাসনিক তদারকি নিশ্চিত করা জরুরি।

বেতন-ভাতা নিয়ে সমস্যা থাকলে সমাধান হোক নিয়মতান্ত্রিকভাবে

হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, বিল পরিশোধ কিংবা অন্যান্য আর্থিক বিষয়ে কোনো সমস্যা থাকলে তা যথাযথ প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় সমাধান করা প্রয়োজন। কর্মচারীদের ন্যায্য পাওনা আদায়ের দাবি যেমন গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত, তেমনি সেই দাবি আদায়ের প্রক্রিয়ায় রোগীদের চিকিৎসাসেবা যাতে ব্যাহত না হয়, তা নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বেতন-ভাতা নিয়ে কোনো বিরোধ বা জটিলতা থাকলে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তি করা যেতে পারে।

এ ধরনের সমস্যার সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্বচ্ছতা, সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত এবং নিয়মিত যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আর্থিক হিসাবসংক্রান্ত কোনো জটিলতা থাকলে নথিপত্র যাচাই করে দায়দায়িত্ব নির্ধারণ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা, অনিয়ম কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠলে তা প্রমাণসাপেক্ষে বিবেচনা করতে হবে। তদন্তের আগে কাউকে দোষী সাব্যস্ত না করে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়াই হবে সঠিক পদ্ধতি।

চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হলে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়বেন সাধারণ রোগীরা

বান্দরবান সদর হাসপাতালের ওপর নির্ভরশীল মানুষের বড় একটি অংশ আর্থিকভাবে অসচ্ছল। অনেক রোগীর পক্ষে বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিকে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়া কঠিন। জরুরি অসুস্থতা, দুর্ঘটনা, দীর্ঘমেয়াদি রোগ কিংবা অন্যান্য শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা সরকারি হাসপাতালকে প্রধান চিকিৎসাকেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করেন। ফলে হাসপাতালের কার্যক্রমে কোনো ধরনের বিঘ্ন দেখা দিলে তাঁদের চিকিৎসা গ্রহণের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়তে পারে।

বিশেষ করে জরুরি বিভাগ, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং নিয়মিত চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হলে রোগীদের দুর্ভোগ বাড়তে পারে। চিকিৎসা নিতে আসা মানুষের পক্ষে প্রশাসনিক বিরোধের কারণ অনুসন্ধান করা বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে সমন্বয়হীনতা দূর করা সম্ভব নয়। তাঁরা হাসপাতালে আসেন চিকিৎসা পাওয়ার প্রত্যাশায়। তাই হাসপাতালের প্রশাসনিক সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেই নিতে হবে, যাতে সাধারণ রোগীদের চিকিৎসা গ্রহণে কোনো অনিশ্চয়তা তৈরি না হয়।

জনস্বার্থের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে হাসপাতালের সব কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার জন্য কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। চিকিৎসাসেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো বিরোধ দেখা দিলে তা দ্রুত সমাধান করে রোগীদের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি যাতে তৈরি না হয়, সে জন্য প্রশাসনিক সমন্বয়, দায়িত্ব বণ্টন এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।

সিভিল সার্জন কার্যালয় ঘেরাও ও তালা দেওয়ার ঘটনা নিয়েও প্রয়োজন নিরপেক্ষ তদন্ত

বান্দরবান সিভিল সার্জন কার্যালয় ঘেরাও এবং কার্যালয়ে তালা দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করেও বিভিন্ন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এ ধরনের ঘটনার পেছনে কী কারণ ছিল, কারা এতে অংশ নিয়েছিলেন এবং সংশ্লিষ্ট দাবি বা অভিযোগগুলো কী ছিল, তা নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। কার্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়ে থাকলে তার প্রভাব প্রশাসনিক কাজের পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনার ওপরও পড়তে পারে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায়দায়িত্ব নির্ধারণের জন্য প্রত্যক্ষ তথ্য, দাপ্তরিক নথি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য যাচাই করা জরুরি।

স্বাস্থ্য বিভাগের কোনো দপ্তরে অভিযোগ বা অসন্তোষ দেখা দিলে তা জানানোর জন্য নিয়মতান্ত্রিক ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। অভিযোগকারীদের বক্তব্য শোনা, অভিযোগের বিষয়গুলো নথিভুক্ত করা এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার মাধ্যমে অনেক বিরোধের সমাধান সম্ভব। একই সঙ্গে সরকারি দপ্তরের স্বাভাবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। কোনো অনিয়মের অভিযোগ থাকলে তা তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণিত করতে হবে এবং দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।

স্বাস্থ্য খাতের প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হলে অভিযোগের গুরুত্ব অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ, নিয়মিত তদারকি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা প্রয়োজন। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী নিয়মবহির্ভূতভাবে প্রভাব বিস্তার করছে কি না, তা যাচাই করার ক্ষেত্রেও নির্ভরযোগ্য তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে এগোতে হবে। এতে প্রকৃত অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি নির্দোষ ব্যক্তির হয়রানি এড়ানো সম্ভব হবে।

কর্তৃপক্ষের কাছে জনসাধারণের প্রশ্ন

হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগের সত্যতা কতটুকু? সংশ্লিষ্ট প্রধান হিসাবরক্ষকের প্রশাসনিক ক্ষমতা ও দায়িত্বের সুনির্দিষ্ট সীমা কী? হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে কোনো আর্থিক বা প্রশাসনিক বিরোধ রয়েছে কি না? সিভিল সার্জন কার্যালয় ঘেরাও ও তালা দেওয়ার ঘটনার প্রকৃত কারণ কী? স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনায় কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী নিয়মবহির্ভূতভাবে প্রভাব বিস্তার করছে কি না? এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করা এখন গুরুত্বপূর্ণ।

এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য বিভাগ, সিভিল সার্জন কার্যালয়, জেলা প্রশাসন এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি উঠেছে। তদন্তের প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বক্তব্য গ্রহণ, দাপ্তরিক নথিপত্র যাচাই এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে যাঁদের নাম এসেছে, তাঁদের বক্তব্য শোনার মাধ্যমে প্রকৃত পরিস্থিতি নির্ধারণ করা যেতে পারে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রচলিত বিধিবিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। পাশাপাশি অভিযোগের কোনো ভিত্তি পাওয়া না গেলে সেটিও স্পষ্ট করা প্রয়োজন, যাতে অযথা বিভ্রান্তি না ছড়ায়।

বান্দরবানবাসীর প্রত্যাশা, জেলার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত হবে। প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের অনিয়ম বা ক্ষমতার অপব্যবহার থাকলে তার প্রতিকার হবে, আর ন্যায্য দাবি থাকলে তা নিয়মতান্ত্রিকভাবে নিষ্পত্তি করা হবে। সর্বোপরি, বেতন-ভাতা নিয়ে বিরোধ, দাপ্তরিক জটিলতা কিংবা ব্যক্তিগত মতপার্থক্যের কারণে কোনো রোগী যেন চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হন, সেটি নিশ্চিত করাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রধান দায়িত্ব।

স্বাস্থ্যসেবা মানুষের মৌলিক প্রয়োজনের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। তাই এ খাতের প্রতিটি অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ এবং নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে জনসাধারণের আস্থা ফিরিয়ে আনা জরুরি। বান্দরবান সদর হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা স্বাভাবিক রাখা এবং জেলার মানুষের চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার সুরক্ষিত রাখার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেবে—এমনটাই প্রত্যাশা সচেতন মহলের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *