বান্দরবানে অসহায় ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে এককালীন অনুদান বিতরণ

মোঃ শামীম হোসেন সিকদার:

বান্দরবান পার্বত্য জেলায় গরিব, অসহায় ও দুস্থ পরিবারের জীবনমান উন্নয়ন, অসহায় রোগীদের চিকিৎসাসহায়তা এবং গরিব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা অব্যাহত রাখতে এককালীন অনুদান বিতরণ করা হয়েছে। জেলা সমাজকল্যাণ পরিষদের মাধ্যমে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সুবিধাভোগীদের হাতে অনুদান তুলে দেন অতিথিরা। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মিসেস মাম্যাচিং। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য ও সমাজসেবা বিভাগের আহ্বায়ক মোহাম্মদ জসিম উদ্দীন তুষার।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সমাজের গরিব, অসহায় ও দুস্থ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে আর্থিক সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে অসচ্ছল পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো হলে তারা পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে উৎসাহ পাবে। পাশাপাশি অসহায় রোগীদের চিকিৎসাসহায়তা প্রদান তাদের দুর্দিনে সহায়ক হবে। প্রধান অতিথির বক্তব্যে মিসেস মাম্যাচিং বলেন, “সরকারের পাশাপাশি জেলা পরিষদ সবসময় অসহায় ও পিছিয়ে পড়া মানুষের কল্যাণে কাজ করছে। গরিব, অসহায় ও দুস্থ মানুষের পাশে থাকা আমাদের মানবিক দায়িত্ব।”

তিনি আরও বলেন, অসহায় মানুষের কল্যাণে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ। সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে সরকারি সহায়তা ও মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। সভাপতির বক্তব্যে মোহাম্মদ জসিম উদ্দীন তুষার বলেন, “এই অনুদান শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, এটি অসহায় মানুষের প্রতি রাষ্ট্রের সহমর্মিতার প্রতীক। ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।” তিনি বলেন, গরিব ও অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রমে সহযোগিতা করা সমাজকল্যাণমূলক উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য। এ ধরনের সহায়তা সুবিধাবঞ্চিত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানটির আয়োজনে ছিল জেলা সমাজকল্যাণ কার্যালয়, বান্দরবান পার্বত্য জেলা। সহযোগিতায় ছিল বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ এবং অর্থায়ন ও পৃষ্ঠপোষকতায় ছিল সমাজসেবা অধিদপ্তর, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, ঢাকা। অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদ ও জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, সাংবাদিক এবং শতাধিক সুবিধাভোগী উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা গরিব, অসহায়, দুস্থ পরিবারের সদস্য, অসহায় রোগী এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে এককালীন অনুদান তুলে দেন। এ সময় সুবিধাভোগীরা এ সহায়তার মাধ্যমে নিজেদের প্রয়োজন পূরণ এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে উপকৃত হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *