শামীম হোসেন সিকদার:
বান্দরবান জেলা ছাত্রদলের বর্তমান আহ্বায়ককে ‘স্বৈরাচারী’ ও ‘অযোগ্য’ আখ্যা দিয়ে তাঁর নেতৃত্ব প্রত্যাখ্যান করেছে সংগঠনের একটি বড় অংশ। আজ সোমবার দুপুরে ‘বান্দরবান জেলা ছাত্রদলের সর্বাত্মক নেতৃবৃন্দ’-এর ব্যানারে জেলা শহরে এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় উত্তাল বিক্ষোভে জেলা শহরের প্রধান সড়কগুলোতে যান চলাচল কিছু সময়ের জন্য বিঘ্নিত হয়।
বিক্ষোভ ও টায়ার প্রদর্শন
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরের দিকে শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে ছাত্রদলের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী জড়ো হতে থাকেন। মিছিলটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এসে অবস্থান নেয়। সেখানে বিক্ষুব্ধ কর্মীরা বর্তমান জেলা আহ্বায়কের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং রাস্তার মাঝখানে টায়ার জ্বালিয়ে অগ্নিকুণ্ড তৈরি করেন। এতে করে পুরো এলাকায় টানটান উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখা ছাত্রদল নেতারা অভিযোগ করেন যে, বর্তমান আহ্বায়ক তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন না করে পকেট কমিটি গঠন এবং একনায়কতন্ত্র কায়েম করছেন। তারা বলেন, “আমরা এই পকেট নেতৃত্ব মানি না। যারা রাজপথের ত্যাগী কর্মীদের বাদ দিয়ে নিজেদের বলয় ভারী করতে চায়, বান্দরবানের মাটিতে তাদের ঠাঁই নেই। অবিলম্বে এই বিতর্কিত কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন ও যোগ্য নেতৃত্ব দিতে হবে।”
বিক্ষোভকারীরা বর্তমান আহ্বায়ককে জেলা ছাত্রদলে ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করেন এবং কেন্দ্রীয় কমিটির হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
বিক্ষোভ মিছিল ও টায়ার জ্বালানোর খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। পুলিশের উপস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে এখনো ছোট ছোট গ্রুপে নেতাকর্মীদের অবস্থান করতে দেখা গেছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে এই রাজনৈতিক অস্থিরতা নিয়ে কিছুটা আতঙ্ক কাজ করছে।
এই বিষয়ে অভিযুক্ত জেলা আহ্বায়কের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া না গেলেও তাঁর ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো দাবি করেছে, এই বিক্ষোভ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গের শামিল।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, বান্দরবান জেলা ছাত্রদলের একাংশ তাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।