মোঃ শামীম হোসেন সিকদার:
শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ উপলক্ষে বান্দরবান পার্বত্য জেলার ৩৩টি পূজামণ্ডপের অনুকূলে মোট ২০ লাখ টাকার এককালীন আর্থিক অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়েছে। দুর্গাপূজা উদযাপন নির্বিঘ্ন ও আনন্দমুখর করতে পূজামণ্ডপগুলোর সহায়তায় এ অনুদান দেওয়া হয়। বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পূজামণ্ডপগুলোর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুদানের চেক তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান মিজ মাম্যাচিং। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমি মন্ত্রণালয় ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোঃ হেলাল উদ্দিন, এমপি। এ সময় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি এবং পূজামণ্ডপের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোঃ হেলাল উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। প্রধানমন্ত্রীের নেতৃত্বে পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি, উন্নয়ন ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। দুর্গাপূজা বাঙালির সার্বজনীন উৎসব উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতিটি পূজামণ্ডপে যাতে নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপন করা যায়, সে জন্য সরকারের পক্ষ থেকে নিরাপত্তাসহ সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। পূজামণ্ডপগুলোর অনুকূলে দেওয়া ২০ লাখ টাকার অনুদান সেই সহযোগিতারই একটি অংশ।
তিনি আরও বলেন, ধর্মীয় উৎসবগুলো যেন সবাই শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পালন করতে পারেন, সে জন্য পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সম্প্রীতি বজায় রাখা জরুরি। বিশেষ করে পার্বত্য অঞ্চলে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিনের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক ধরে রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে প্রতিটি মণ্ডপে উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় রাখা এবং পূজারীদের নির্বিঘ্নে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের সুযোগ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মিজ মাম্যাচিং বলেন, পার্বত্য বান্দরবান শান্তি ও সম্প্রীতির জেলা। এখানে পাহাড়ি-বাঙালি এবং হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষ মিলেমিশে বসবাস করেন। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এ অঞ্চলের অন্যতম শক্তি। শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে জেলা পরিষদ সব সময় পূজামণ্ডপগুলোর পাশে রয়েছে। তিনি বলেন, যেকোনো প্রয়োজনে জেলা পরিষদের দরজা সবার জন্য খোলা থাকবে। সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় রেখে সবাই যাতে আনন্দের সঙ্গে দুর্গাপূজা উদযাপন করতে পারেন, সে বিষয়ে জেলা পরিষদ সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উন্নয়ন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান শেখ ছালেহ আহম্মেদ, জেলা প্রশাসক মিসেস নাজনীন সুলতানা, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ওহাবুল ইসলাম খন্দকার, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম এবং নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মনসুর। তাঁরা দুর্গাপূজা উদযাপনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি অটুট রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে প্রধান অতিথি ব্যারিস্টার মীর মোঃ হেলাল উদ্দিন ৩৩টি পূজামণ্ডপের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে এককালীন আর্থিক অনুদানের চেক তুলে দেন। এ অনুদান দুর্গাপূজা আয়োজনের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বান্দরবান পার্বত্য জেলার বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় রাখার প্রত্যয় নিয়ে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। অনুষ্ঠান শেষে সকলের মঙ্গল, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় প্রার্থনা করা হয়।