স্টাফ রিপোর্টার:
দারিদ্র্য বিমোচন, সামাজিক বৈষম্য হ্রাস এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনমান উন্নয়নে জনকল্যাণমূলক উদ্যোগকে আরও গতিশীল করার প্রত্যয় নিয়ে বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশনের (বিএনএফ) চেয়ারম্যান খোন্দকার মো. মোরতাজুল করিম বাদরুর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন জাতীয় মানবাধিকার সোসাইটির কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান, বিশিষ্ট কবি ও সমাজবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. মু. নজরুল ইসলাম তামিজী।
বিএনএফ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ সৌজন্য সাক্ষাৎটি ছিল পারস্পরিক সৌহার্দ্য, জ্ঞানভিত্তিক মতবিনিময় ও সামাজিক দায়বদ্ধতার এক আন্তরিক উপলক্ষ। সাক্ষাৎকালে দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন, মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর কল্যাণে বিভিন্ন সম্ভাবনাময় বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
আলোচনায় দারিদ্র্যপীড়িত মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, সমাজের সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের পরিধি সম্প্রসারণের বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পায়।
বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশন দেশের প্রান্তিক ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আর্থসামাজিক উন্নয়নে সহযোগী সংস্থার মাধ্যমে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এসব উদ্যোগকে আরও কার্যকর ও জনমুখী করার ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং বাস্তবসম্মত পরিকল্পনার গুরুত্বও আলোচনায় উঠে আসে।
সৌজন্য সাক্ষাতের একপর্যায়ে অধ্যাপক ড. মু. নজরুল ইসলাম তামিজী তাঁর রচিত কয়েকটি গবেষণাগ্রন্থ বিএনএফ চেয়ারম্যান খোন্দকার মো. মোরতাজুল করিম বাদরুর হাতে তুলে দেন।
গবেষণাগ্রন্থ উপহারের এ উদ্যোগ জ্ঞানচর্চা, গবেষণাভিত্তিক চিন্তা ও সমাজ উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও অর্থবহ করে তোলে। সমাজের বিদ্যমান সমস্যা চিহ্নিত করা, দারিদ্র্যের বহুমাত্রিক কারণ অনুধাবন এবং মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের ক্ষেত্রে গবেষণালব্ধ জ্ঞান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, পারস্পরিক সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক ও গঠনমূলক সংলাপের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের ক্ষেত্র আরও সমৃদ্ধ হবে।
বিশেষ করে সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করা, তাদের আত্মনির্ভরশীলতা বাড়ানো এবং মানবিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোর সমন্বিত ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
একটি বৈষম্যহীন, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন সম্মিলিত প্রচেষ্টা, সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা এবং মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধের সমন্বয়ে পরিচালিত উদ্যোগগুলো দেশের টেকসই উন্নয়ন এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনমান পরিবর্তনে ইতিবাচক অবদান রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।