মো: নুরে ইসলাম মিলন, রাজশাহী ব্যুরো:
ইমারত বিধিমালা (বিল্ডিং কোড) লঙ্ঘনের বিষয়ে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) দপ্তরে প্রায় প্রতিদিনই অভিযোগপত্র জমা পড়ছে। নকশাবহির্ভূত ভবন নির্মাণের কারণে আশপাশের ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় একের পর এক অভিযোগ করেও অনেক ক্ষেত্রে প্রতিকার মিলছে না। ফলে নগরীতে নকশাবহির্ভূত বহুতল ভবনের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ৫ তলার অনুমোদন নিয়ে ৭ তলা এবং ৭ তলার অনুমোদন নিয়ে ১০ তলা ভবনও নির্মাণ করা হচ্ছে। এছাড়া ইমারত বিধিমালা উপেক্ষা করে সড়ক ঘেঁষে ভবন নির্মাণের প্রবণতাও বাড়ছে। ভবনের উচ্চতা অনুযায়ী রাস্তা ও ফাঁকা জায়গা ছাড়ার নির্দিষ্ট বিধি থাকলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা মানা হচ্ছে না।
ঠিক এভাবেই রাজশাহী নগরীর মতিহার থানার কাজলা সুইটের মোড় এলাকায় একটি বহুতল ভবন নির্মাণ কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে মোসা: শামসুন্নাহারের বিরুদ্ধে। তিনি কাজলা সুইটের মোড় এলাকার গোলাম মুস্তফার স্ত্রী। এলাকার মোসা: মমেনা বেগম ও পাভেল ইসলাম মিমুলের জমির পাশে তিনি একটি বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই নির্মাণকাজে বিধিমাালার ব্যাপক লঙ্ঘন করা হয়েছে।
নিয়মবহির্ভূত এই ভবন নির্মাণ কাজ বন্ধে গত ২৬ জানুয়ারি মো: টুটুল শেখের ছেলে পাভেল ইসলাম মিমুল রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত আবেদন করেন। ভুক্তভোগী পাভেল ইসলাম মিমুল বলেন, “শামসুন্নাহারের মেয়েজামাই নাহিদ হাসানকে একাধিকবার অনুরোধ করেও কোনো কাজ হয়নি। বিত্তবান হওয়ার প্রভাবে তিনি প্রভাবশালী মহল ও থানায় মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে পুলিশের ভয় দেখাচ্ছেন। কাজ বন্ধ হলে দেখে নেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন এবং টাকা দিয়ে সব ম্যানেজ করার দম্ভোক্তি করে প্রকাশ্যে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।”
তিনি আরও বলেন, “কাজলা মৌজার আরএস ১৬৩৮ দাগে কোনো অনুমোদিত নকশা নেই। এই জায়গায় ইমারত নির্মাণের জন্য আরডিএ কর্তৃক কোনো অনুমতিও নেওয়া হয়নি। জমির সীমানা সংক্রান্ত বিরোধ থাকা সত্ত্বেও আরডিএ’র বিধি না মেনে এবং নকশার তোয়াক্কা না করেই শামসুন্নাহার ৫ তলা বিশিষ্ট ইমারত নির্মাণ করছেন। এই অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হবে না? আরডিএ কাজ বন্ধের নির্দেশ দিলেও তিনি আজও মিস্ত্রি দিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। আমি সাধারণ মানুষ হিসেবে ন্যায়বিচার পাব কোথায়?”
আরডিএ’র বিধি না মেনে বহুতল ভবন নির্মাণের বিষয়ে জানতে চাইলে মোসা: শামসুন্নাহার প্রতিবেদকের কাছে দাবি করেন, “আমরা এখন আর কাজ করব না। নির্বাচনের পরে কাজ শুরু করব।”
মতিহার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, “আমি আরডিএ অফিস থেকে চিঠি পেয়েছি। যার প্রেক্ষিতে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে কাজ আপাতত বন্ধ করে দিয়েছে। কোন বিল্ডিং হবে আর কোনটি হবে না, সেটি দেখার দায়িত্ব আরডিএ’র। তারা তাদের নিয়ম মেনে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। জনগণের নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য আমাদের পুলিশ সদস্যরা ২৪ ঘণ্টা নিয়োজিত আছেন।”
এ বিষয়ে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অথরাইজড অফিসার মো: আব্দুল্লাহ আল তারিক বলেন, “কাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে এবং ইতোমধ্যে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এরপরও যদি কাজ চলমান রাখা হয়, তবে বিধি মোতাবেক কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”