বিষাক্ত বর্জ্যে দক্ষিণাঞ্চল ধ্বংসের পথে, কঠোর হুঁশিয়ারি দিলেন এমপি মনিরুল হক চৌধুরী

মোঃআনজার শাহ

কুমিল্লা ইপিজেড থেকে নির্গত বিষাক্ত রাসায়নিক বর্জ্য পরিশোধন ছাড়াই সরাসরি প্রাকৃতিক খালে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে, এই গুরুতর অভিযোগ তুলে বেপজা কর্তৃপক্ষকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। তিনি বলেছেন, অবিলম্বে এই অপরাধমূলক কার্যক্রম বন্ধ না হলে দক্ষিণাঞ্চলের বিস্তীর্ণ জনপদ, কৃষিজমি ও জীববৈচিত্র্য চিরতরে ধ্বংস হয়ে যাবে।

শনিবার (০৬ জুন) সকাল ১১টায় কুমিল্লা বেপজার সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।

 

যাঁরা উপস্থিত ছিলেন,
বেপজার নির্বাহী পরিচালক প্রকৌশলী শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক (কমার্শিয়াল) হাসানুজ্জামান, অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক (আইআর) ফেরদৌস, নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) মিজানুর রহমান এবং সহকারী প্রকৌশলী (৫ম গ্রেড) শফিকুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

ইপিজেডের অবদানের স্বীকৃতি,

সভার শুরুতে এমপি মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, “কুমিল্লা ইপিজেড বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। এখানে প্রচুর বৈদেশিক বিনিয়োগ আসছে এবং নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও অধিক পণ্য রপ্তানি হচ্ছে। এই সাফল্যের জন্য ইপিজেড কর্তৃপক্ষকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানাই।”

বিষাক্ত বর্জ্য নিয়ে তীব্র ক্ষোভ,

তবে কৃতিত্বের পাশাপাশি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এমপি বলেন, “অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, ইপিজেডের বিষাক্ত রাসায়নিক বর্জ্য কোনো প্রকার পরিশোধন ছাড়াই সিটি করপোরেশনের প্রাকৃতিক খালে মিশিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এই বিষাক্ত বর্জ্য খালের পানিতে মিশে দক্ষিণাঞ্চলের বিস্তীর্ণ জনপদকে ধীরে ধীরে বিষাক্ত করে ফেলছে।”

তিনি আরও বলেন, “এই দূষণে ফসলের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। অসহায় কৃষকরা দিনের পর দিন সর্বস্বান্ত হচ্ছেন। শুধু কৃষি নয়, জীববৈচিত্র্যও হুমকির মুখে পড়েছে। মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি প্রতিনিয়ত বাড়ছে, এটি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”

কর্তৃপক্ষকে কঠোর নির্দেশনা,

এমপি মনিরুল হক চৌধুরী ইপিজেড কর্তৃপক্ষকে সরাসরি নির্দেশ দিয়ে বলেন, “অনতিবিলম্বে ইপিজেডের সমস্ত রাসায়নিক বর্জ্য পরিশোধনাগারে (ইটিপি) পূর্ণাঙ্গভাবে পরিশোধন করতে হবে। পরিশোধনের পরেই কেবল তা প্রাকৃতিক খালে ছাড়া যাবে। অন্যথায় অপরিশোধিত কোনো বর্জ্য খালে ছাড়া সম্পূর্ণ বেআইনি এবং তা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।”

সম্প্রসারণের দাবি ও নতুন ইপিজেড প্রস্তাব,

পরিবেশ সংকটের পাশাপাশি ইপিজেডের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব রাখেন এমপি মনিরুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, “কুমিল্লা ইপিজেডে বৈদেশিক বিনিয়োগ দিন দিন বাড়ছে। এই ধারা অব্যাহত রাখতে হলে ইপিজেডের সম্প্রসারণ এখন সময়ের দাবি।”

তিনি জানান, বর্তমান ইপিজেডের দক্ষিণ দিকে পর্যাপ্ত জমি রয়েছে। ইচ্ছা করলেই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা সম্ভব। এ ছাড়া গোমতী নদীর উত্তর পাড়ে সম্পূর্ণ আলাদা একটি নতুন ইপিজেড স্থাপনের বিষয়টিও সরকারের বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

পরিবেশ রক্ষায় আর দেরি নয়,

উল্লেখ্য, কুমিল্লা ইপিজেড দেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল হিসেবে বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করে আসছে। তবে পরিবেশ দূষণের এই সংকট দ্রুত সমাধান না হলে স্থানীয় জনজীবন, কৃষি খাত ও প্রাকৃতিক পরিবেশে যে বিপর্যয় নেমে আসবে তা কোনোভাবেই পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে না বলে মনে করছেন পরিবেশ বিশেষজ্ঞ ও সচেতন মহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *