মোঃ আনজার শাহ:
প্রকাশ্যে এক বৃদ্ধ পথচারীকে মারধর ও সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার অভিযোগে রাশিয়ান বংশোদ্ভূত বাংলাদেশি মডেল ও সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার মনিকা কবিরের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইনের আদালতে ঢাকা জেলা দক্ষিণ ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি সাজ্জাদ আল ইসলাম এই মামলার আবেদন করেন। আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে মামলার অভিযোগ তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) আগামী ৯ এপ্রিলের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। বাদী পক্ষের আইনজীবী শহিদুল ইসলাম (সুমন) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ঘটনার বিবরণ
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ১০ মার্চ বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে রাজধানীর গুলশান-২ এলাকার রয়্যাল ব্লু প্লাজার বিপরীতে চার রাস্তার মোড়ে এক বৃদ্ধ ব্যক্তি পথ দিয়ে যাচ্ছিলেন। সেই সময় আসামি মনিকা কবির রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে টিকটক ভিডিও তৈরিতে ব্যস্ত ছিলেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, হাঁটার সময় বৃদ্ধের হাতের ব্যাগ মনিকার গায়ে সামান্য স্পর্শ করলে তিনি বিনা উসকানিতে বৃদ্ধের ওপর চড়াও হন। তিনি বৃদ্ধের ব্যাগ ছুড়ে মারেন এবং তাকে শারীরিকভাবে আঘাত করেন। এতে ওই বৃদ্ধ ব্যক্তি শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন এবং চরমভাবে অপমানিত হন।
ভিডিও প্রচারে বিতর্ক
মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, আসামি ঘটনাটি ইচ্ছাকৃতভাবে ভিডিও করেন এবং পরবর্তীতে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন। এর মাধ্যমে তিনি ওই বৃদ্ধ পথচারীকে সামাজিকভাবে আরও হেয় প্রতিপন্ন করেছেন। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয় এবং সর্বমহলে তীব্র নিন্দার ঝড় ওঠে।
আইনি প্রতিক্রিয়া
বাদী পক্ষের আইনজীবী শহিদুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি শুধু একজন বৃদ্ধ মানুষের প্রতি শারীরিক নির্যাতন নয়, এটি সমাজের প্রবীণ মানুষদের প্রতি চরম অসম্মান ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের একটি নগ্ন দৃষ্টান্ত। দোষী প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী আসামির বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।
এ ঘটনায় সচেতন নাগরিক সমাজ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী গুলশান থানার ওসি আগামী ৯ এপ্রিলের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করবেন। মামলাটির পরবর্তী কার্যক্রম সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে বলে আইনজীবী সূত্রে জানা গেছে।