আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ভারতে চলমান বিভিন্ন ছাত্র ও যুব আন্দোলনে ক্রমেই আলোচনায় উঠে আসছেন নেহা বোরা। বামপন্থি ছাত্র সংগঠন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) সভাপতি নেহা বিভিন্ন ইস্যুতে আন্দোলন ও প্রতিবাদ কর্মসূচিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন।
ভারতের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে হামলা, শিক্ষাব্যবস্থা এবং নির্বাচনসংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগসহ নানা বিষয়ে সরব হয়েছেন তিনি। সম্প্রতি প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে আন্দোলনেও নেতৃত্ব দিতে দেখা গেছে তাকে।
আন্দোলন থেকেই পরিচিতি
চলতি বছরের জুলাইয়ে মেডিকেল কলেজে ভর্তির প্রবেশিকা পরীক্ষা ‘নিট’-এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে চলা আন্দোলনে অংশ নিয়ে আলোচনায় আসেন নেহা। ওই সময় অনশনরত অভিজিৎ দীপক ও সোনম ওয়াংচুকের পাশাপাশি নেহাকেও আন্দোলনে সক্রিয় দেখা যায়।
এরপর ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষায় কথিত অনিয়মের অভিযোগে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে অংশ নিতে রাঁচিতে যান তিনি। সেখানে আন্দোলনের সময় তাঁর মুখে কালি ছোড়ার ঘটনা ঘটে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর নেহা বলেন, মুখে কালি ছুড়ে তাঁকে ভয় দেখানো যাবে না। দিল্লির আন্দোলনের সময় তিনি প্যালেট গান ও লাঠিচার্জের মুখোমুখি হয়েছেন বলেও দাবি করেন।
পরে বিহারে গিয়ে আন্দোলনের সময় গ্রেপ্তার হওয়া শিক্ষার্থীদের মুক্তির দাবিতেও কর্মসূচিতে অংশ নেন তিনি। এসব আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে ছাত্র রাজনীতিতে নেহার পরিচিতি আরও বাড়তে থাকে।
শিক্ষাজীবন ও ছাত্র রাজনীতি
নেহা বোরা উত্তরাখণ্ডের বাসিন্দা। তিনি দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর আম্বেদকর বিশ্ববিদ্যালয়, দিল্লি থেকে এমএ সম্পন্ন করেন। বর্তমানে তিনি দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে (জেএনইউ) পিএইচডি করছেন।
দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় ও জেএনইউতে বামপন্থি ছাত্র রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন নেহা। বর্তমানে আইসার সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।
আইসা ভারতের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত একটি সংগঠন। সংগঠনটির মূল রাজনৈতিক দল সিপিআই (এমএল) লিবারেশন। দলটির বর্তমানে বিহার ও ঝাড়খণ্ডে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন ইস্যুতেও সরব
সম্প্রতি নেহা আবারও দিল্লিতে আন্দোলনে নামেন। এবার তাঁর আন্দোলনের বিষয় মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি।
বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, দেশে চলমান ‘এসআইআর’ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের কারণে বিপুলসংখ্যক মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ হারিয়েছেন এবং এর জন্য নির্বাচন কমিশন দায়ী। তবে এসব অভিযোগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে মতপার্থক্য রয়েছে।
নেহার নেতৃত্বে আন্দোলনকারীরা নির্বাচনসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন। তাঁর বক্তব্য ও কর্মসূচির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় অনলাইনেও তাকে নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
বিজেপি-সমর্থক পরিবারে বেড়ে ওঠা
নেহা বোরা জানিয়েছেন, তাঁর পরিবারের কয়েকজন দীর্ঘদিন ধরে বিজেপির সমর্থক। এ কারণে তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানের সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের মতপার্থক্য রয়েছে।
এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দিল্লিতে আসার পর রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হওয়ার কারণে পরিবারের সঙ্গে রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে মতপার্থক্য আরও স্পষ্ট হয়েছে।
তুলনার জবাবে সংহতির বার্তা
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেহা বোরা ও আন্দোলনকর্মী অভিজিৎ দীপকের মধ্যে কে বেশি ‘পরিণত’ বা প্রতিভাবান—এ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
একটি পোস্টে নেহাকে অভিজিৎ দীপকের সঙ্গে তুলনা করা হলে সেটি পুনরায় শেয়ার করে দীপক লেখেন, তিনি এই মতের সঙ্গে একমত।
এরপর নেহা সেই পোস্টের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘তুলনা নয়, সংহতি। আমরা একসঙ্গে লড়ি।’
জবাবে অভিজিৎ দীপক লেখেন, ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ।’
নেহা একাধিক আন্দোলনে তরুণদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পরস্পরের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার পরিবর্তে একে অপরের পাশে দাঁড়িয়েই পরিবর্তনের পথ তৈরি করা সম্ভব।
বর্তমানে ভারতের বিভিন্ন ছাত্র ও যুব আন্দোলনে নেহা বোরার সক্রিয় উপস্থিতি তাকে দেশটির ছাত্র রাজনীতির আলোচিত মুখগুলোর একজন করে তুলেছে।