মাজেদ সরদার রোডে আমজাদ হোসেনের বেপরোয়া বহুতল নির্মাণ

স্টাফ রিপোর্টার:

রাজউকের নিয়মকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে রাজধানীর পুরান ঢাকার বংশাল এলাকায় বহুতল ভবন নির্মাণ করে যাচ্ছেন আমজাদ হোসেন নামে এক ভবন মালিক—এমন অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের কাছ থেকে। অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ একাধিকবার সতর্কতা ও নোটিশ প্রদান করলেও তিনি তা উপেক্ষা করে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন, ফলে এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বংশাল থানাধীন ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের মাজেদ সরদার রোডের ৯৯/৩ নম্বর বাড়িতে এই নির্মাণকাজ চলছে। সরেজমিনে গেলে দেখা যায়, ভবনটির বিভিন্ন অংশে বিল্ডিং কোড লঙ্ঘনের স্পষ্ট চিহ্ন রয়েছে। যথাযথ অনুমোদন, নকশা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই ভবনটি দ্রুতগতিতে নির্মাণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।

এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “আমরা খুব ভয়ে আছি। এই ধরনের অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবন যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। আগুন লাগলে বা ভূমিকম্প হলে আমাদের জীবন হুমকির মুখে পড়বে।” তারা আরও বলেন, “রাজউক বারবার আসছে, নোটিশ দিচ্ছে—কিন্তু কাজ বন্ধ হচ্ছে না। এটা কীভাবে সম্ভব, সেটাই প্রশ্ন।”

রাজউকের সংশ্লিষ্ট এক পরিদর্শক সাদ্দাম হোসেন বলেন, “আমরা বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখছি। একাধিকবার আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছি। কিন্তু আমাদের উপস্থিতি টের পেলেই ভবন মালিক সরে যান। আমরা চলে আসার পর আবার কাজ শুরু করেন।” তিনি জানান, সর্বশেষ একটি নোটিশ পাঠানো হয়েছে এবং তা অমান্য করা হলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অভিযোগ রয়েছে, বিষয়টি নিয়ে আদালতেও গিয়েছিল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। আদালতের নির্দেশনা থাকার পরও তা মানা হচ্ছে না বলে দাবি স্থানীয়দের। এতে করে আইনের শাসন নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজধানীতে এ ধরনের নিয়মবহির্ভূত নির্মাণ নতুন কিছু নয়। কিন্তু যথাযথ তদারকি ও দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়ায় এ প্রবণতা দিন দিন বেড়েই চলেছে। এতে করে নগর পরিকল্পনা ভেঙে পড়ার পাশাপাশি জননিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।

এদিকে ভবন মালিক আমজাদ হোসেনের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরেও কল করা হলে তিনি সাড়া দেননি।

স্থানীয়রা দ্রুত এই অবৈধ নির্মাণ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, শুধুমাত্র নোটিশ দিয়ে দায়িত্ব শেষ করলে চলবে না; বাস্তবিক ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের অনিয়ম করার সাহস না পায়।

রাজধানীর নিরাপদ ও পরিকল্পিত উন্নয়নের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি ও কার্যকর পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *