রকিবুল হাসান:
মাদারীপুর সদর উপজেলার শিরখাড়া ইউনিয়নে মানসিক ভারসাম্যহীন এক ছেলের মারধরে মায়ের মৃত্যুর ঘটনা এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। নিহতের নাম বিউটি বেগম (৫৭)। তিনি শিরখাড়া ইউনিয়নের সৈয়দনূর এলাকার বাসিন্দা এবং আলী মাতুব্বরের স্ত্রী। ঘটনার পর স্থানীয়দের সহযোগিতায় অভিযুক্ত ছেলে করিম মাতুব্বর (২৫)-কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (১ আগস্ট) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে নিজ বসতবাড়িতে মর্মান্তিক এ ঘটনা ঘটে। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, করিম মাতুব্বর দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছিলেন এবং প্রায়ই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অস্বাভাবিক আচরণ করতেন। বিশেষ করে তিনি বিভিন্ন সময় তার মা বিউটি বেগমকে মারধর করতেন বলে স্থানীয়দের দাবি।
ঘটনার রাতে করিম মাতুব্বর তার মায়ের কাছে ভাত খেতে চান। তবে নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বিউটি বেগম ঘরের দরজা না খুলে দরজার নিচ দিয়ে একটি প্লেটে করে ভাত দেন। এতে করিম মাতুব্বর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি প্রথমে গালিগালাজ শুরু করেন এবং পরে দরজার নিচ দিয়ে মায়ের হাত টেনে ধরেন।
একপর্যায়ে ধস্তাধস্তির সময় বিউটি বেগমের মাথা দরজার সঙ্গে আঘাতপ্রাপ্ত হয়। এরপর করিম ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে তাকে ধাক্কা দিলে ঘরের দেয়ালের সঙ্গে মাথার পেছনে সজোরে আঘাত লাগে। এতে তার মাথা ফেটে গুরুতর রক্তক্ষরণ হয় এবং ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
ঘটনার সময় নিহতের স্বামী আলী মাতুব্বর (৬৫) একই কক্ষে উপস্থিত ছিলেন। তবে আকস্মিক ঘটনায় তিনি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেননি বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে।
পরদিন রোববার (২ আগস্ট) সকাল আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে শ্রীনদী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেন।
এ বিষয়ে শ্রীনদী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই হাসান জানান, স্থানীয়দের সহায়তায় মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযুক্ত করিম মাতুব্বরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, করিম মাতুব্বর দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। তার আচরণ প্রায়ই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেত এবং বিভিন্ন সময় তিনি তার মাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করতেন। এ কারণে পরিবার দীর্ঘদিন ধরে আতঙ্কের মধ্যে বসবাস করছিল।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, এ মর্মান্তিক ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রতিবেশীরা বলেন, একজন মায়ের এমন করুণ মৃত্যু অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। তারা মানসিক রোগীদের চিকিৎসা ও পারিবারিক পর্যায়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
উল্লেখ্য, অভিযুক্ত করিম মাতুব্বর মানসিক ভারসাম্যহীন বলে স্থানীয়দের দাবি থাকলেও তার মানসিক অবস্থা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা ও তদন্ত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।