স্টাফ রিপোর্টার:
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার ভূজপুরে আকিজ এগ্রো ফিড লিমিটেডের এক সহকারী ব্যবস্থাপকের বিরুদ্ধে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ডিলার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়েরের পাশাপাশি কোম্পানির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছেও প্রতিকার চেয়ে আবেদন করেছেন। অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্ত করছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আকিজ এগ্রো ফিড লিমিটেডের কোড নং-৫০০৩৯২২১২৯৪৩৩-এর অধীনস্থ ডিলার ভূজপুর পোলট্রি কমপ্লেক্স-এর স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ ইব্রাহিম (পিতা: মৃত মোহাম্মদ ইউসুফ, সাং-পশ্চিম ভূজপুর) গত ১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে ভূজপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, আকিজ এগ্রো ফিড লিমিটেডের সহকারী ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আনোয়ারুল হক (৪৬) (পিতা: মোহাম্মদ মুসলিম উদ্দিন, মাতা: মোছাম্মৎ শামসুন নাহার, স্থায়ী ঠিকানা: চৌহদ্দিটোলা, চাপাইনবাবগঞ্জ) দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন লেনদেনের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৩ মার্চ ২০২৬ তারিখে সহকারী ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আনোয়ারুল হকের মাধ্যমে ভূজপুর পোলট্রি কমপ্লেক্স থেকে মানিকছড়ি উপজেলার হেনা পোলট্রি কমপ্লেক্সে ৬ টন ফিড সরবরাহ করা হয়। এর মধ্যে ছিল ব্রয়লার গ্রোয়ার ২ টন এবং ব্রয়লার স্টার্টার ৪ টন। সরবরাহকৃত এসব ফিডের বাজারমূল্য ছিল ৩ লাখ ৬২ হাজার ৩৪০ টাকা।
অভিযোগকারী দাবি করেন, হেনা পোলট্রি কমপ্লেক্স থেকে সরবরাহকৃত ফিডের সম্পূর্ণ মূল্য নগদে গ্রহণ করেন সহকারী ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আনোয়ারুল হক। কিন্তু তিনি সেই অর্থ ভূজপুর পোলট্রি কমপ্লেক্সের মালিককে পরিশোধ না করে নিজের কাছে রেখে আত্মসাৎ করেন।
এতেই শেষ নয়। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, চাকরি থেকে চলে যাওয়ার আগে মোহাম্মদ আনোয়ারুল হক ব্যক্তিগতভাবে ভূজপুর পোলট্রি কমপ্লেক্স থেকে হাওলাত বাবদ ৯৬ হাজার টাকা, বাসার জন্য মুরগি ও ডিম নেওয়া বাবদ ৯ হাজার টাকা এবং ভূজপুরে তার বাসা ভাড়ার জন্য ২১ হাজার টাকা গ্রহণ করেন। এসব অর্থও তিনি পরিশোধ করেননি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে ফিডের মূল্যসহ মোট ৪ লাখ ৮৮ হাজার ৩৪০ টাকা পরিশোধ না করেই তিনি কর্মস্থল ত্যাগ করেন বলে অভিযোগকারীর দাবি।
এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে ভূজপুর পোলট্রি কমপ্লেক্সের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ ইব্রাহিম গত ৩০ জুলাই ২০২৬ তারিখে আকিজ এগ্রো ফিড লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার শাহিন শরিশ বরাবরও একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। সেখানে তিনি ঘটনার তদন্ত করে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান।
অভিযোগকারী মোহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে আকিজ এগ্রো ফিডের ডিলার হিসেবে ব্যবসা পরিচালনা করছি। কোম্পানির প্রতি আস্থা রেখেই ব্যবসা করেছি। কিন্তু দায়িত্বে থাকা একজন কর্মকর্তা আমার পাওনা টাকা আত্মসাৎ করে চলে যাওয়ায় আমি মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছি। বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত করে আমার পাওনা অর্থ ফেরত এবং দোষী ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভূজপুর থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অন্যদিকে, আকিজ এগ্রো ফিড লিমিটেডের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এই প্রতিবেদনের জন্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।
উল্লেখ্য, এই প্রতিবেদনে উল্লিখিত তথ্যসমূহ অভিযোগপত্রের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ আদালত বা তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়নি।