মার্কিন নির্বাচনে মুসলিম প্রার্থী আব্দুল এল-সায়েদকে ঘিরে নানা সমীকরণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সিনেট আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী আব্দুল এল-সায়েদ। তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান পার্টির মাইক রজার্স। নির্বাচনের আগে নানা রাজনৈতিক সমীকরণ, দলীয় বিভক্তি এবং গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে বিতর্কের কারণে এই আসনের লড়াই বেশ আলোচিত হয়ে উঠেছে।

ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রাথমিক নির্বাচনে জয়ী হয়ে সাধারণ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ পান আব্দুল এল-সায়েদ। তবে শুরু থেকেই তাঁকে নানা বাধার মুখে পড়তে হয়েছে। সর্বশেষ তাঁর নিজ দলের নেত্রী ও পার্লামেন্ট সদস্য হ্যালি স্টিভেন্স প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের প্রতি সমর্থন জানান। সোমবার (২ নভেম্বর) তাঁর এই অবস্থান প্রকাশ্যে আসার পর মিশিগানের নির্বাচনী লড়াই নতুন করে আলোচনায় আসে।

হ্যালি স্টিভেন্স ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রাথমিক নির্বাচনে আব্দুল এল-সায়েদের কাছে পরাজিত হয়েছিলেন। সাধারণত দলীয় প্রার্থী নির্বাচিত হওয়ার পর একই দলের নেতাদের তাঁর পক্ষে প্রচার চালানোর কথা থাকলেও স্টিভেন্সের ভিন্ন অবস্থান রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

কে এই আব্দুল এল-সায়েদ

আব্দুল এল-সায়েদের পারিবারিক শিকড় মিসরে। তাঁর বাবা-মা মিসরীয় অভিবাসী। ছোট বয়সে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। দেশটিতে আসার পর তাঁর বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ ঘটে। পরে তিনি বাবা ও সৎমায়ের কাছে বেড়ে ওঠেন।

রাজনীতিতে আসার আগে তিনি ওয়েন কাউন্টির স্বাস্থ্য পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এবারের নির্বাচনই তাঁর জন্য সিনেট সদস্য হওয়ার প্রথম সুযোগ।

জয়ের পথে কী কী চ্যালেঞ্জ

মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ভোটারদের মধ্যে বিভিন্ন ধর্মীয়, জাতিগত ও সামাজিক সম্প্রদায়ের মানুষ রয়েছেন। সেখানে মুসলিম, ইহুদি ও কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের অবস্থান নির্বাচনী ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

নির্বাচনের আগে ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন, মধ্যপ্রাচ্যনীতি এবং ইহুদিবিদ্বেষের অভিযোগের মতো বিষয়গুলোও আলোচনায় এসেছে। এসব ইস্যুতে ভোটারদের অবস্থান আব্দুল এল-সায়েদের নির্বাচনী ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের জন্যও এবারের নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ। এর আগে মিশিগানের সিনেট নির্বাচনে অল্প ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিলেন তিনি। ফলে এবার সিনেট সদস্য হওয়ার সুযোগ কাজে লাগাতে চাইছেন রজার্স।

বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৪ সালের পর মিশিগান থেকে রিপাবলিকান পার্টির কোনো প্রার্থী সিনেট নির্বাচনে জয়ী হতে পারেননি। দীর্ঘদিনের এই রাজনৈতিক ধারা এবারও অব্যাহত থাকে কি না, সেটিও নির্বাচনের অন্যতম আলোচ্য বিষয়। এই ধারা বজায় থাকলে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আব্দুল এল-সায়েদের জয়ের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

মিশিগানের বর্তমান সিনেটর গ্যারি পিটার্স। তিনি রাজনীতি থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়ে এবারের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না। ফলে তাঁর ছেড়ে দেওয়া আসনটি ঘিরে দুই দলের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

আব্দুল এল-সায়েদের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের অবস্থান

নির্বাচনী প্রচারে আব্দুল এল-সায়েদের বিরুদ্ধে সরাসরি অবস্থান নিয়েছেন রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কোনো প্রমাণ উপস্থাপন না করেই তিনি এল-সায়েদকে ‘জিহাদি’ বলে অভিহিত করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া রিপাবলিকানদের পক্ষ থেকে তাঁর বিরুদ্ধে নির্বাচনী বিজ্ঞাপন প্রচারে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হয়েছে।

অন্যদিকে, আব্দুল এল-সায়েদের পক্ষে প্রচারে অংশ নিয়েছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট প্রার্থী কমলা হ্যারিস এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। তাঁদের সমর্থন ডেমোক্র্যাট প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারে কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটিও দেখার বিষয়।

সব মিলিয়ে মিশিগানের সিনেট আসনে আব্দুল এল-সায়েদ ও মাইক রজার্সের লড়াই এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। দলীয় সমর্থন, বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ভোট এবং জাতীয় রাজনীতির প্রভাব—সবকিছু মিলিয়ে শেষ পর্যন্ত কে বিজয়ী হন, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে ভোট গণনা শেষ হওয়া পর্যন্ত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *