আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর উদ্বেগের মধ্যেই মিয়ানমারের প্রায় দেড় হাজার নাগরিককে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে মালয়েশিয়া। মঙ্গলবার প্রথম ধাপে তাঁদের জাহাজে করে মিয়ানমারে পাঠানোর প্রস্তুতি শুরু হয়।
ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মালয়েশিয়ার বিভিন্ন আটককেন্দ্র থেকে ‘স্বেচ্ছায়’ নিজ দেশে ফিরতে রাজি হওয়া প্রায় ৫ হাজার মিয়ানমারের নাগরিকের মধ্যে প্রথম ধাপে দেড় হাজার জনকে ফেরত পাঠানো হচ্ছে।
এএফপির প্রতিনিধিরা দেখতে পান, মিয়ানমারের নাগরিকদের বহনকারী বেশ কয়েকটি বাস পুলিশি নিরাপত্তায় মালয়েশিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের লুমুত নৌঘাঁটির কাছে অবস্থিত মজলিস পারবান্দারান মানজুং স্টেডিয়ামে পৌঁছায়। তবে স্টেডিয়াম প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি।
ধারণা করা হচ্ছে, সেখানে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ও আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাঁদের পাশের নৌঘাঁটিতে নেওয়া হবে। পরে জাহাজে করে মিয়ানমারে পাঠানো হবে।
দলে কতজন রোহিঙ্গা, নিশ্চিত নয়
প্রথম ধাপে ফেরত পাঠানো ব্যক্তিদের মধ্যে কতজন রোহিঙ্গা রয়েছেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষও এ বিষয়ে কোনো সংখ্যা প্রকাশ করেনি।
তবে জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, মালয়েশিয়ায় থাকা প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার মিয়ানমারের শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই নির্যাতিত মুসলিম সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সদস্য।
চলতি বছরের জুলাইয়ে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম জানিয়েছিলেন, মিয়ানমার ৫ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত নিতে রাজি হয়েছে। ওই প্রত্যাবাসন উদ্যোগ মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করে।
প্রত্যাবাসন নিয়ে উদ্বেগ
কুয়ালালামপুরে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের কার্যালয়ের সামনে শতাধিক রোহিঙ্গাকে আটক করার পর প্রত্যাবাসন পরিকল্পনার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
পেনাং রাজ্যের একটি অস্থায়ী বসতি থেকে উচ্ছেদের হুমকির মুখে সাহায্যের আশায় ওই শরণার্থীরা ইউএনএইচসিআরের কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়েছিলেন। পরে তাঁদের কাছে জাতিসংঘের বৈধ কাগজপত্র থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর পুলিশ তাঁদের ছেড়ে দেয়।
জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সমালোচনার মধ্যে চলতি মাসের শুরুতে মিয়ানমার আশ্বাস দেয়, বিদেশে বাস্তুচ্যুত নিজেদের নাগরিকদের নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা হবে।
প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া দ্রুত করতে মিয়ানমারের সামরিক অভ্যুত্থানের পর প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া মিন অং হ্লেইংকে সরকারি সফরের আমন্ত্রণ জানানোর কথাও জানিয়েছিলেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম।
শরণার্থী সনদে স্বাক্ষর করেনি মালয়েশিয়া
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ শরণার্থী জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দিলেও মালয়েশিয়া ১৯৫১ সালের আন্তর্জাতিক শরণার্থী সনদে স্বাক্ষর করেনি। ফলে দেশটি আনুষ্ঠানিকভাবে শরণার্থীদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেয় না।
এদিকে এএফপির ফ্যাক্ট-চেকিং দল জানিয়েছে, মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত রোহিঙ্গা শরণার্থীরা নিয়মিত ইন্টারনেটে অপপ্রচারের শিকার হচ্ছেন। মানবাধিকারকর্মীদের মতে, এসব অপপ্রচার রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে বিদেশিভীতি ও উসকানি বাড়িয়ে দিচ্ছে।
মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বড় একটি অংশ ২০১৭ সালে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর দমন-পীড়ন ও নির্যাতনের মুখে দেশ ছেড়ে বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নেয়।