মিয়ানমারে ভয়াবহ বন্যা, ১০ জনের মৃত্যুর আশঙ্কা; নিখোঁজ ৩০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

মিয়ানমারের দক্ষিণাঞ্চলের তানিনথারি অঞ্চলে ভারী বৃষ্টি ও বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। বন্যা ও ভূমিধসে সেখানে সাত থেকে ১০ জনের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ ছাড়া ২০ থেকে ৩০ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় একটি ত্রাণ সংস্থা।

শুক্রবার রাত থেকে তানিনথারি অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় টানা ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। এতে একাধিক টাউনশিপ বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্গত অনেক এলাকায় সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় উদ্ধারকর্মীদের সেখানে পৌঁছাতে বেগ পেতে হচ্ছে।

স্বেচ্ছাসেবী দাওয়েই জাবুথিরি ইমার্জেন্সি মেডিকেল সার্ভিসের চেয়ারম্যান মিও মিন বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, কিছু গ্রামে এখন শুধু পায়ে হেঁটেই পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে। ত্রাণকর্মীরা কয়েকশ বাসিন্দাকে বাড়িঘর ছেড়ে মঠের আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নিতে দেখেছেন।

মিও মিন বলেন, এখনো হতাহতের কোনো নিশ্চিত সংখ্যা পাওয়া যায়নি। তবে প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সাত থেকে ১০ জনের মৃত্যু হতে পারে এবং ২০ থেকে ৩০ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

তিনি আরও জানান, উদ্ধারকর্মীরা এখনো পুরো দুর্যোগকবলিত এলাকার পরিস্থিতি সামাল দিতে পারেননি। ফলে ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের প্রকৃত চিত্র জানতে আরও সময় লাগতে পারে।

মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত বন্যায় হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির কোনো সরকারি সংখ্যা প্রকাশ করেনি। দেশটিতে চলমান গৃহযুদ্ধের কারণে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমও জটিল হয়ে পড়েছে। সংঘাতপূর্ণ এলাকায় যোগাযোগের সীমাবদ্ধতার কারণে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত মাত্রা নিরূপণ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

এদিকে প্রতিবেশী থাইল্যান্ডেও ভারী বৃষ্টির কারণে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় ৪৮ ঘণ্টার টানা বৃষ্টিতে রাজধানী ব্যাংককের বিভিন্ন এলাকায় বাড়িঘর, দোকানপাট ও সড়ক পানিতে তলিয়ে যায়।

ব্যাংকক মেট্রোপলিটন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় প্রায় ৫২ হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং প্রায় ৪ হাজার ৯০০ মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

মিয়ানমার জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর একটি। জার্মানির অলাভজনক সংস্থা জার্মানওয়াচের তথ্য অনুযায়ী, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা বিশ্বের শীর্ষ ১০ দেশের তালিকায় রয়েছে দেশটি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *