মিরপুরের নিউ লন্ডন প্যালেসে সামাজিক অনৈতিকতার অভিযোগ, ম্যানেজার সাদ্দামকে ঘিরে প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজধানীর মিরপুর-১ এলাকার রবিউল প্লাজার ৯ম তলায় অবস্থিত আবাসিক হোটেল নিউ লন্ডন প্যালেসকে ঘিরে সামাজিক অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। হোটেলটির বর্তমান ম্যানেজার হিসেবে সাদ্দামের নাম উল্লেখ করে বিভিন্ন অভিযোগ করা হলেও এসব অভিযোগের বর্তমান সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

হোটেল নিউ লন্ডন প্যালেসের অবস্থান মিরপুর-১ এলাকার রবিউল প্লাজায়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রকাশিত তালিকাতেও ‘হোটেল নিউ লন্ডন প্যালেস (রেসিডেনশিয়াল)’ নাম এবং রবিউল প্লাজার ঠিকানা উল্লেখ রয়েছে।

হোটেল কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত নিয়মাবলি অনুযায়ী, কোনো অতিথি রুম নেওয়ার পর ডায়রিতে নাম-ঠিকানা লিপিবদ্ধ করতে হয়। একই সঙ্গে ভোটার আইডি কার্ড, পাসপোর্ট অথবা চাকরির পরিচয়পত্রের ফটোকপি জমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। নির্ধারিত ভাড়া পরিশোধ করে রশিদ সংগ্রহ, দুপুর ১২টায় রুম ত্যাগ এবং রুম ছাড়ার আগে ম্যানেজারকে অবহিত করার নির্দেশনাও রয়েছে।

নিয়মাবলিতে মাদক, আগ্নেয়াস্ত্র ও অবৈধ মালামাল সংরক্ষণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি রাজনৈতিক আলাপ-আলোচনাও নিষিদ্ধ বলে উল্লেখ রয়েছে। রাত ১১টায় হোটেলের গেট বন্ধ রাখার পাশাপাশি রাত ১০টার পর বাইরের মেহমানের প্রবেশ নিষিদ্ধ করার কথা বলা হয়েছে।

তবে লিখিত নিয়মাবলির পাশাপাশি হোটেলটির বাস্তব ব্যবস্থাপনা ও কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে হোটেলের ভেতরে নিষিদ্ধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ, আবাসিকদের পরিচয় যাচাই এবং অতিথিদের তথ্য যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হচ্ছে কি না—এসব বিষয় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

নিউ লন্ডন প্যালেসকে ঘিরে এর আগেও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। ২০২৪ সালের ১০ মে রাতে শাহআলী থানা পুলিশ হোটেলটিতে অভিযান চালিয়ে পাঁচ নারীকে গ্রেপ্তার করার খবর প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে তাদের বিরুদ্ধে দেহব্যবসা ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগের কথা বলা হয়। পুলিশের পক্ষ থেকেও আবাসিক হোটেলগুলোতে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখার কথা জানানো হয়েছিল।

এর আগে ২০২২ সালেও নিউ লন্ডন প্যালেসকে ঘিরে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। ওই প্রতিবেদনে তৎকালীন ম্যানেজার হিসেবে অন্য একজনের নাম উল্লেখ করা হয়। ফলে অতীতের এসব অভিযোগকে বর্তমান ম্যানেজার সাদ্দামের বিরুদ্ধে সরাসরি প্রমাণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

বর্তমানে ম্যানেজার সাদ্দামের বিরুদ্ধে হোটেলে সামাজিক অনৈতিক কর্মকাণ্ড চলার অভিযোগ করা হচ্ছে। অভিযোগকারীদের দাবি, হোটেল ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির ভূমিকা এবং সেখানে অবস্থানকারী অতিথিদের কার্যক্রম যথাযথভাবে নজরদারি করা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো সাম্প্রতিক পুলিশি নথি, মামলা, অভিযানসংক্রান্ত সরকারি প্রতিবেদন বা আদালতের নথি এই প্রতিবেদনের হাতে আসেনি। ফলে ম্যানেজার সাদ্দাম সরাসরি কোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।

সংশ্লিষ্টদের মতে, অভিযোগের প্রকৃত চিত্র জানতে হোটেলের রেজিস্টার, অতিথিদের পরিচয়পত্র সংরক্ষণের তথ্য, সিসিটিভি ফুটেজ, সাম্প্রতিক পুলিশি অভিযান বা তদন্তের নথি এবং হোটেল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

একই সঙ্গে ম্যানেজার সাদ্দামের বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা প্রয়োজন। অভিযোগ সত্য হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা এবং অভিযোগের ভিত্তি না থাকলে সেটিও স্পষ্ট করা উচিত।

স্থানীয়দের মতে, আবাসিক হোটেলে আইনবহির্ভূত কোনো কর্মকাণ্ড পরিচালিত হলে তা বন্ধে প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন। একই সঙ্গে কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা প্রকাশ করাও জরুরি।

নিউ লন্ডন প্যালেসকে ঘিরে অতীতে পুলিশের অভিযান ও বিভিন্ন অভিযোগের তথ্য থাকায় বর্তমানে ওঠা অভিযোগগুলোও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *