মোঃআনজার শাহ
দেশের শিশুস্বাস্থ্য সেবা খাতে যুক্ত হলো এক আশার আলো। রংপুর শিশু হাসপাতাল ও কুমিল্লা শিশু হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা ১০০ থেকে বাড়িয়ে ২০০-তে উন্নীত করার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা-১ শাখা থেকে গত ১৩ জুলাই ২০২৬ তারিখে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে, যা অবিলম্বে কার্যকর বলে ঘোষণা করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে স্পষ্ট ভাষায় বলা হয়েছে, সরকার এই দুটি হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা দ্বিগুণ করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। উপসচিব কাজী শরীফ উদ্দিন আহমেদের স্বাক্ষরে জারি হওয়া এই প্রজ্ঞাপনের অনুলিপি ইতিমধ্যে পাঠানো হয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, অর্থ বিভাগ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় পরিচালক, জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জনসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে। পরবর্তীতে বিষয়টি সরকারি গেজেটে প্রকাশের প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়াও শুরু হবে বলে জানানো হয়েছে।
শিশুস্বাস্থ্যে নতুন দিগন্ত
এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে রংপুর ও কুমিল্লা এই দুই গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলের শিশুরা পাবে আরও বিস্তৃত ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা। শয্যা সংখ্যা দ্বিগুণ হওয়ার মানে হলো, প্রতিদিন আরও বেশি অসুস্থ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ পাবে, কমবে রোগীর চাপ ও ভোগান্তি, বাড়বে সেবার মান। দীর্ঘদিন ধরে এই দুই বিভাগীয় ও জেলা শহরের অভিভাবকদের যে প্রত্যাশা ছিল, তা এখন বাস্তবায়নের পথে।
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এই পদক্ষেপ শুধু একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয় এটি হাজারো পরিবারের জন্য স্বস্তির বার্তা। বিশেষ করে দূরবর্তী উপজেলা থেকে আসা রোগীদের জন্য এটি হতে পারে জীবন রক্ষাকারী এক পদক্ষেপ।
এখন প্রয়োজন দ্রুত বাস্তবায়ন
নীতিগত অনুমোদন মিললেও প্রকৃত সুফল পেতে প্রয়োজন দ্রুত ও কার্যকর বাস্তবায়ন। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ, চিকিৎসক-নার্স-জনবল নিয়োগ, চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন করা গেলে অচিরেই এই দুই হাসপাতাল পূর্ণ সক্ষমতায় সেবা দিতে সক্ষম হবে। সংশ্লিষ্ট মহল আশা প্রকাশ করেছেন, সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো এই উদ্যোগকে অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে গেজেট প্রকাশসহ পরবর্তী সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে, যাতে শিশুরা যত দ্রুত সম্ভব এই সম্প্রসারিত সেবার সুফল পেতে পারে।
এই উদ্যোগ রংপুর ও কুমিল্লার চিকিৎসা অবকাঠামো উন্নয়নে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এবং দেশের সামগ্রিক শিশুস্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার পথে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।