স্টাফ রিপোর্টার:
চট্টগ্রাম নগরের অক্সিজেন-নয়ারহাট এলাকায় সাংবাদিক রাজীব আহম্মেদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। হামলায় তিনি গুরুতর আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন।
ভুক্তভোগী রাজীব আহম্মেদের অভিযোগ, বুধবার (১৭ জুন) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কয়েকজন ব্যক্তি তাকে প্রথমে ডেকে একটি নিরিবিলি স্থানে নিয়ে যান। এরপর অস্ত্রের মুখে জোরপূর্বক অক্সিজেন-নয়ারহাট এলাকার গায়েবি মসজিদ-সংলগ্ন একটি ভবনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আগে থেকে অবস্থানরত ৭ থেকে ৮ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল তার ওপর হামলা চালায়।
তিনি জানান, হামলাকারীরা লোহার পাইপ ও হকি স্টিক দিয়ে তার হাত ও দুই পায়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে। তাকে ছুরিকাঘাতেরও চেষ্টা করা হয়। এছাড়া তার কাছে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার মুখে আঘাত করা হয়। এতে তার একটি দাঁত ভেঙে যায় বলে দাবি করেন রাজীব আহম্মেদ।
ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার পর গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে প্রথমে অক্সিজেনের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠান।
সাংবাদিক রাজীব আহম্মেদ বলেন, অভিযুক্ত বাপ্পি এলাকায় মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত বলে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় সংবাদ প্রকাশ করায় ক্ষুব্ধ হয়ে পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালানো হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে সংবাদ প্রকাশের কারণে তিনি নানা ধরনের হুমকি ও চাপের মুখে ছিলেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার পর তারা বায়েজিদ বোস্তামী থানায় অভিযোগ নিয়ে গেলে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল করিম বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে শোনেন এবং চিকিৎসাসংক্রান্ত কাগজপত্র পর্যালোচনা করেন। পরে অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, অভিযোগে উল্লেখিত বাপ্পিসহ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হোক। তাদের দাবি, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে। তাই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার তিন দিন পেরিয়ে গেলেও মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়নি। মামলা দায়েরের পরও প্রশাসনের পক্ষ থেকে তারা প্রত্যাশিত সহযোগিতা পাচ্ছেন না।