মোঃ রাসেল:
বান্দরবানের লামা বন বিভাগের ডলুছড়ি রেঞ্জের আজিজনগর এলাকায় আইনের তোয়াক্কা না করে গতরাতে নির্বিচারে সরকারি বনজ সম্পদ পাচারের মারাত্মক ঘটনা ঘটেছে। রেঞ্জ বন কর্মকর্তার কার্যালয়ের ঠিক সামনে প্রধান সড়কের ওপর প্রকাশ্যেই বড় ট্রাকে বিপুল পরিমাণ বনের গোল কাঠ বোঝাই করে পাচার করার সুনির্দিষ্ট চিত্র পাওয়া গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ডলুছড়ি রেঞ্জের দায়িত্বে থাকা রেঞ্জ কর্মকর্তা আলতাফ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ এবং নিয়মিত অনৈতিক আর্থিক লেনদেন বা মাসোহারার মাধ্যমেই এই সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে বনাঞ্চল উজাড় করে চলেছে। সরকারি কার্যালয়ের মাত্র কয়েক গজ দূর দিয়ে প্রতি রাতে শত শত ঘনফুট মূল্যবান কাঠ পাচার হয়ে গেলেও বন কর্মকর্তাদের রহস্যজনক নীরবতা স্থানীয়দের মনে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
‘ফোন করলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, ‘গতরাতে যখন প্রধান সড়কের ওপর ট্রাকে করে সরকারি বনের মূল্যবান গোল কাঠ বোঝাই করা হচ্ছিল, তখন আমি নিজেই রেঞ্জ কর্মকর্তা আলতাফ হোসেনকে ফোন করি। তাঁকে কাঠ পাচারের সুনির্দিষ্ট লোকেশন বা স্পটটির কথা স্পষ্ট জানানোর পরেও তিনি স্পটে আসেননি, এমনকি কোনো পদক্ষেপও নেননি। তিনি পুরোপুরি নীরব ভূমিকা পালন করেছেন।’
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, কর্মকর্তাদের এই নির্বিকার ভূমিকার কারণেই পাচারকারীরা নির্ভয়ে সরকারি সম্পদ লুটে নিচ্ছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ডলুছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা আলতাফ হোসেনের বক্তব্য জানার জন্য এবং ঘটনার রাতে কেন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, তা নিশ্চিত করতে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি ফোন রিসিভ না করায় এবং কোনো সাড়া না দেওয়ায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
হুমকিতে পার্বত্য জীববৈচিত্র্য
পরিবেশবিদরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, প্রজনন মৌসুমে এবং সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে এভাবে অপরিপক্ব গাছ ও মূল্যবান বনজ সম্পদ উজাড় হতে থাকলে পার্বত্য অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য চরম হুমকির মুখে পড়বে। বন সুরক্ষায় নিয়োজিত রক্ষকরাই যখন ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন, তখন বনের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা অসম্ভব হয়ে পড়ে।
তদন্ত ও কঠোর হস্তক্ষেপের দাবি
এই প্রকাশ্য অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে সচেতন মহল বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (DFO) এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। বনের সরকারি সম্পদ রক্ষা এবং অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কঠোর হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।