স্টাফ রিপোর্টার:
মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার রাজৈর সদর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান চায়না বেগমকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে প্রশাসক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। এ সংক্রান্ত একটি স্মারকপত্র মাদারীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে রাজৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাজৈর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদ শূন্য হওয়ার পর চায়না বেগমকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেওয়া হয়। দায়িত্ব পালনের সময় তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগ নিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে কয়েকজন স্থানীয় সাংবাদিক হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, ইউপি ট্যাক্স, ট্রেড লাইসেন্স, উন্নয়ন প্রকল্প, টিআর, কাবিখা ও কাবিটাসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া ট্যাক্সের অর্থ আত্মসাৎ, স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে প্রকল্পের টাকা উত্তোলন, বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা দেওয়ার নামে অর্থ আদায় এবং টিউবওয়েল বরাদ্দের ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগও উত্থাপিত হয়েছে।
স্থানীয়দের একটি অংশের অভিযোগ, ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রেও সাধারণ মানুষকে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। নাগরিকত্ব সনদ, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স এবং ওয়ারিশ সনদসহ বিভিন্ন সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে।
এদিকে, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা চাঁদাবাজির অভিযোগ ও অপপ্রচারের অভিযোগ এনে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় চায়না বেগমসহ চারজনের বিরুদ্ধে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে এবং বিষয়টি আদালতের অনুমোদনক্রমে তদন্তাধীন রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
তবে চায়না বেগমের বক্তব্য এই প্রতিবেদনের জন্য পাওয়া যায়নি। তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত শেষে প্রকৃত তথ্য উদঘাটিত হবে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া না গেলেও, জেলা প্রশাসনের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কার্যক্রমে নতুন ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।