জসিম মেহেদী :
বামনা উপজেলার রামনা ইউনিয়নের রাজনৈতিক অঙ্গন বর্তমানে বেশ সরগরম। আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে রামনার জনপ্রিয় নেতা ও সমাজসেবক হিসেবে পরিচিত জাহাঙ্গীর হোসেনের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আমাদের বিশেষ প্রতিনিধি। নিচে আলোচনার চুম্বক অংশ তুলে ধরা হলো:
প্রতিবেদক : বর্তমানে বামনার রাজনৈতিক পরিবেশ এবং আগামী নির্বাচন নিয়ে আপনার পরিকল্পনা কী? আপনি কি রামনা ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা ভাবছেন?
জাহাঙ্গীর হোসেন: রাজনীতি আমার কাছে কেবল ক্ষমতার মঞ্চ নয়, বরং সেবার একটি মাধ্যম। রামনা ইউনিয়নের মানুষের ভালোবাসা ও আস্থা আমার রাজনীতির মূল চালিকাশক্তি। আগামী নির্বাচন নিয়ে আমার ব্যক্তিগত পরিকল্পনা দলের সিঝদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল। তবে তৃণমূলের সহকর্মীরা আমাকে যেভাবে মূল্যায়ন করছেন, তা আমার জন্য বড় সম্মানের। আমি দলের একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী হিসেবে সবসময় প্রস্তুত আছি এবং রামনার উন্নয়নে আমার একটি সুনির্দিষ্ট রূপরেখা রয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দলের হাইকমান্ড এবং এলাকার মুরব্বি ও কর্মীদের মতামতের ভিত্তিতেই গ্রহণ করব।
প্রতিবেদক : বিএনপির দুর্দিনে আপনাকে পাওয়া গেলেও সাম্প্রতিক সময়ে আপনাকে কিছুটা নিষ্ক্রিয় মনে হয়েছে। এই নীরবতার পেছনে কি কোনো বিশেষ কৌশল রয়েছে?
জাহাঙ্গীর হোসেন: নিষ্ক্রিয়তা বা নীরবতা—বিষয়টিকে আমি ভিন্নভাবে দেখি। রাজনীতির মাঠে সবসময় দৃশ্যমান থাকা মানেই রাজনীতি নয়; অনেক সময় পর্দার আড়ালে থেকে সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করাও রাজনীতির অংশ। দলের দুর্দিনে আমি ছিলাম, অনুকূল সময়েও আছি। মাঝে ব্যক্তিগত ব্যস্ততা ও সাংগঠনিক কৌশলের কারণে হয়তো সরাসরি রাজপথে আমাকে কম দেখা গেছে, তবে আমি নিশ্চিত করছি যে, আমি কখনোই দলের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হইনি। কর্মীরা যে উদ্বেগের কথা বলছেন, আমি তা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিয়েছি এবং তাদের সাথে নিবিড় যোগাযোগ পুনরায় শুরু করেছি।
প্রতিবেদক : সাধারণ মানুষের কাছে আপনি ‘মানবতার ফেরিওয়ালা’ হিসেবে পরিচিত। এই ইমেজের আলোকে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?
জাহাঙ্গীর হোসেন: ‘মানবতার ফেরিওয়ালা’ খেতাবটি আমার জন্য বড় দায়িত্ব। আমি বিশ্বাস করি, জনপ্রতিনিধি হওয়ার আগে একজন ভালো মানুষ হওয়া জরুরি। আমার সেবার পরিধি সবসময়ই দলীয় গণ্ডি ছাড়িয়ে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় ছিল। আমি নির্বাচিত হই বা না হই, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমার অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। আমার ইশতেহার হবে—শিক্ষার প্রসার, বেকার যুবকদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রামনার স্বাস্থ্যসেবাকে তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া।
প্রতিবেদক : তৃণমূলের কর্মীদের সাথে বর্তমানে আপনার সম্পর্ক কেমন এবং আগামী নির্বাচনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আপনার কৌশল কী?
জাহাঙ্গীর হোসেন: তৃণমূলই বিএনপির প্রাণ। আমি নিয়মিত কর্মীদের সাথে মতবিনিময় করছি। তারা আমার কাছ থেকে এমন নেতৃত্ব চান, যারা তাদের সুখে-দুঃখে ছায়ার মতো পাশে থাকবে। চ্যালেঞ্জ তো থাকবেই—প্রতিপক্ষ ও প্রতিকূল পরিবেশ মোকাবিলাই রাজনীতির নিয়ম। আমার কৌশল হলো—শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বজায় রাখা, দলের ভেতরে ঐক্য গড়ে তোলা এবং সাধারণ মানুষের সাথে সুসম্পর্ক আরও নিবিড় করা। কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করতে পারলে যেকোনো চ্যালেঞ্জ জয় করা সম্ভব।
প্রতিবেদক : পরিশেষে, যদি আপনি নির্বাচিত হন, তবে রামনা ইউনিয়নকে নিয়ে আপনার স্বপ্ন কী? জনগণের উদ্দেশ্যে কী বলবেন?
জাহাঙ্গীর হোসেন: যদি আমি দলীয় মনোনয়ন পাই এবং জনগণ আমাকে নির্বাচিত করেন, তবে আমার প্রথম কাজ হবে একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ইউনিয়ন পরিষদ গঠন করা। দুর্নীতিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করা এবং রামনাকে আধুনিক ও ডিজিটাল ইউনিয়নে রূপান্তর করা আমার স্বপ্ন। পরিশেষে, রামনার সাধারণ জনগণকে বলতে চাই—আমি আপনাদেরই মানুষ, আপনাদেরই একজন। আমার ওপর আস্থা রাখুন, আমি কথা দিচ্ছি, আপনাদের সম্মান ও প্রত্যাশা রক্ষায় আমি কখনোই কার্পণ্য করব না।
উল্লেখ্য : সাক্ষাৎকারটি নেওয়ার সময় জাহাঙ্গীর হোসেনের মধ্যে দলের শীর্ষ পর্যায়ের সিদ্ধান্তের প্রতি বেশ শ্রদ্ধাশীল মনোভাব লক্ষ্য করা গেছে। রামনা ইউনিয়নের তরুণ ভোটারদের মাঝে তার বেশ গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। তবে তৃণমূলের কোন্দল নিরসনে তাকে কতটা সফল হতে হয়, তা নির্বাচনে বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াতে পারে।