আন্তর্জাতিক ডেস্ক ::
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে চার বছরে রুশ শিবিরে প্রায় ৫ লাখ মানুষ নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন যুক্তরাজ্যের সেনাপ্রধান এয়ার চিফ মার্শাল রিচ নাইটন। নিহতদের মধ্যে সামরিক ও বেসামরিক উভয়েই রয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। এ ছাড়া আহত হয়েছেন আরও প্রায় ১৫ লাখ মানুষ।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সংবাদমাধ্যমের উদ্দেশে দেওয়া এক ভিডিওবার্তায় এ দাবি করেন যুক্তরাজ্যের সেনাপ্রধান। তিনি বলেন, সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছে। ওই প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৫ লাখ রুশ নিহত হয়েছেন।
রিচ নাইটন বলেন, নিহত ও আহতদের অধিকাংশই সামরিক বাহিনীর সদস্য। নিহতদের সিংহভাগের ঘটনা ঘটেছে ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে। তাঁর দাবি, বিপুল প্রাণহানির বিনিময়ে রাশিয়া ইউক্রেনের মোট ভূখণ্ডের মাত্র ২ শতাংশ দখল করতে পেরেছে।
তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের একটি অন্যায্য লক্ষ্য অর্জনের জন্য মানুষের জীবন কীভাবে অর্থহীনভাবে অপচয় হচ্ছে, নিহতের এই সংখ্যা তা তুলে ধরছে। তাঁর ভাষায়, রাশিয়ার অন্তত ৫ লাখ পরিবার তাদের বাবা, ভাই, ছেলে কিংবা স্বামীকে আর কখনো দেখতে পাবে না।
পশ্চিমা গোয়েন্দা কর্মকর্তারা অবশ্য বলেছেন, যুদ্ধে বিপুল প্রাণহানি এবং জাতীয় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়লেও ইউক্রেন ইস্যুতে প্রেসিডেন্ট পুতিনের লক্ষ্য পরিবর্তনের কোনো ইঙ্গিত এখনো পাওয়া যায়নি।
ক্রিমিয়াকে রুশ ভূখণ্ড হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়া এবং ইউক্রেনের ন্যাটো সদস্যপদ নিয়ে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার পর ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া। প্রেসিডেন্ট পুতিন নিজেই এ অভিযানের নির্দেশ দেন।
শুক্রবার যুদ্ধের ১ হাজার ৬৬০ দিন পূর্ণ হয়েছে। রেকর্ড অনুযায়ী, প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় রুশ সেনাবাহিনী যতদিন যুদ্ধক্ষেত্রে ছিল, ইউক্রেন যুদ্ধে তার চেয়েও বেশি সময় পার করেছে তারা।
সূত্র: স্কাই নিউজ