ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
মুষলধারে বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়াও ঠাকুরগাঁওবাসীর উচ্ছ্বাসে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবার নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে পা রাখতেই মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে বরণ করে নিতে হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়।রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের বড় মাঠে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ঘিরে মানুষের ঢল নামে। ঠাকুরগাঁওয়ের বিভিন্ন উপজেলা ছাড়াও পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ ও দিনাজপুরের বীরগঞ্জসহ আশপাশের এলাকা থেকে নানা বয়সী মানুষ বৃষ্টিতে ভিজে অনুষ্ঠানে যোগ দেন।দুপুরে বিশেষ হেলিকপ্টারে ঠাকুরগাঁওয়ের শহীদ মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়ামে পৌঁছান রাষ্ট্রপতি। সেখানে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও নাগরিক সংবর্ধনা আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে তাকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানানো হয়। পরে সার্কিট হাউসে তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। এরপর রাষ্ট্রপতি মা-বাবার কবর জিয়ারত করে নিজ পৈতৃক বাসভবনে যান।বিকেলে ধর্মীয় গ্রন্থ থেকে পাঠ, রাষ্ট্রপতির সংগ্রামী জীবনের ওপর প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে নাগরিক সংবর্ধনা শুরু হয়। অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি ও তার সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগমকে উত্তরীয় পরিয়ে দেওয়া হয়।অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার একপর্যায়ে রাষ্ট্রপতি ঠাকুরগাঁওয়ের আঞ্চলিক ভাষায় কথা বললে পুরো মাঠ করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে। তিনি বলেন, ‘মুই জানু তোমরা মোক ভালোবাসেন।’ তার এ বক্তব্যে উপস্থিত মানুষের মধ্যে ব্যাপক আবেগ ও উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে।আবেগঘন বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি বলেন, সংঘাত ও প্রতিশোধের রাজনীতি নয়, ভালোবাসা ও সহিষ্ণুতার মধ্য দিয়ে একটি গণতান্ত্রিক সমাজ গড়ে তুলতে হবে। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও তা আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান শক্তি সহিষ্ণুতা বলেও উল্লেখ করেন তিনি।ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়ন প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি জানান, প্রতিশ্রুত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি অধিগ্রহণের কাজ শেষ হয়েছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি মেডিকেল কলেজ স্থাপনের জন্য জায়গা চূড়ান্ত হয়েছে বলেও জানান তিনি।অনুষ্ঠানে সংবর্ধনা কমিটির আহ্বায়ক ডা. আবু মোহাম্মদ খয়রুল কবিরের সভাপতিত্বে স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী নেতারা বক্তব্য দেন। এ সময় রাষ্ট্রপতিকে ‘গণতন্ত্রের কালপুরুষ’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।রাষ্ট্রপতির সফর ঘিরে ঠাকুরগাঁও শহর ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বিভিন্ন তোরণ, ব্যানার ও ফেস্টুনে সাজানো হয়েছে শহরের বিভিন্ন এলাকা।সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ মহাসড়কসংলগ্ন সদর উপজেলার জামালপুর এলাকায় প্রস্তাবিত ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন রাষ্ট্রপতি। এরপর নিজ বাসভবনে মধ্যাহ্নভোজ ও বিশ্রাম শেষে হেলিকপ্টারে ঢাকার উদ্দেশে ঠাকুরগাঁও ছাড়ার কথা রয়েছে।