আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির র্যাপার কিওন হার্টের বিরুদ্ধে এক নারী রেডিও উপস্থাপিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ডোমনিক হেইস নামের ওই নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে হার্টের বিরুদ্ধে আইনি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০১৬ সালে ফ্লোরিডায় হেইসের একটি অনলাইন রেডিও অনুষ্ঠানে হার্টের সাক্ষাৎকার নেওয়ার মাধ্যমে তাদের পরিচয় হয়। পরে ২০১৯ সালে হেইস নিউইয়র্কে চলে গেলে দুজনের মধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, গান তৈরির সুযোগ করে দেওয়ার কথা বলে হার্ট হেইসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করেন। তবে শেষ পর্যন্ত সেই সুযোগ আর তৈরি হয়নি। এমনকি হার্টের পোশাকের ব্র্যান্ডের মডেল হিসেবে কাজ করলেও হেইস কোনো পারিশ্রমিক পাননি বলেও মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৪ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস ও হার্টের জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত একটি পার্টিতে তারা একসঙ্গে অংশ নেন। কনি আইল্যান্ডের বোর্ডওয়াকে অনুষ্ঠান শেষে রাত প্রায় ১টার দিকে তারা কাছের একটি হোটেলের কক্ষে যান।
এর আগে হার্ট হেইসের বাড়িতে অতিথি হিসেবে অবস্থান করায় তার প্রতি হেইসের আস্থা ছিল বলে মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে।
হোটেলে যাওয়ার পর তারা আরও পানীয় পান করেন এবং বাইরে আতশবাজি দেখেন। অভিযোগ অনুযায়ী, অতিরিক্ত মদ্যপানের কারণে একপর্যায়ে হেইস প্রায় অচেতন হয়ে পড়েন। সেই সুযোগে হার্ট তার ওপর যৌন নির্যাতন চালান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। হেইস তাকে বারবার থামতে বললেও তিনি তা শোনেননি বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর হার্ট তাকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ করেছেন হেইস। তার কাছে বন্দুক রয়েছে বলে হার্ট দাবি করেন এবং নিজেকে অপরাধ জগতের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তি হিসেবে উপস্থাপন করেন বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
কিছুদিন পর হেইস বিষয়টি নিয়ে হার্টের মুখোমুখি হলে তিনি প্রথমে ক্ষমা চান বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। পরে তিনি দাবি করেন, ঘটনাটি ধর্ষণ ছিল না এবং এ নিয়ে হেইস অনুশোচনায় ভুগছেন।
ইনস্টাগ্রামে পরে মুছে ফেলা কিছু বার্তায় হার্ট ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে অতিরিক্ত মদ্যপানের কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল বলে লিখেছিলেন বলে মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে হার্ট এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। উল্টো তিনি হেইসকে মিথ্যাবাদী বলে দাবি করেছেন।
নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় কয়েকটি হিপ-হপ দলের সঙ্গে নিজের যোগাযোগের কথা প্রচার করা এই শিল্পীর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে হাজার হাজার অনুসারী রয়েছে। অভিযোগ ও পাল্টা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ঘটনাটি নিয়ে আলোচনা চলছে।