Deprecated: Function WP_Dependencies->add_data() was called with an argument that is deprecated since version 6.9.0! IE conditional comments are ignored by all supported browsers. in /home/u102988081/domains/dailyswadhinsangbad.com/public_html/wp-includes/functions.php on line 6260
লামায় রাতের আঁধারে সাবাড় হচ্ছে পাহাড়, ধসের ঝুঁকিতে ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট - দৈনিক স্বাধীন সংবাদ

লামায় রাতের আঁধারে সাবাড় হচ্ছে পাহাড়, ধসের ঝুঁকিতে ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট

মো. রাসেল, স্টাফ রিপোর্টার:

বান্দরবানের লামা উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে দেদারসে পাহাড় কেটে মাটি বিক্রির মহোৎসব চলছে। উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নের পূর্বচাম্বি গুরুলোড়া পাড়ার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের গরুর বাজারসংলগ্ন পাহাড়ে এই অবৈধ মাটি কাটার ঘটনা ঘটছে। অবাধে পাহাড় কাটার ফলে চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে আশপাশের ঘরবাড়ি ও যাতায়াতের প্রধান রাস্তাঘাট। তবে এ বিষয়ে স্থানীয় পরিবেশ অধিদপ্তরের সঙ্গে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিনজন ব্যক্তি মিলে সিন্ডিকেট তৈরি করে এই মাটি বিক্রি করছেন। অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন—মৃত আনোয়ার হোসেনের ছেলে মো. জাহেদুল ইসলাম (৩৩) ও শরিফুল ইসলাম (২৭) এবং মৃত মুন্সি আলী সরকারের ছেলে মো. আনোয়ার হোসেন (৩৮)।

অভিযোগ রয়েছে, তারা তিনজন মিলে দীর্ঘদিন ধরে রাতের আঁধারে পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি করে আসছেন। প্রতি গাড়ি মাটি ৩ হাজার টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। গত ৭ আগস্ট ২০২৬ তারিখ রাতেও তারা প্রায় ৪০০ গাড়ি মাটি বিক্রি করেছেন বলে জানা গেছে।

পাহাড়ের পাদদেশে গড়ে ওঠা ঘরবাড়ি এবং স্থানীয় রাস্তাঘাটের ঠিক পাশ থেকেই মাটি খুঁড়ে নেওয়ায় যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের ধসের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই পাহাড় ধসে বসতবাড়ির ওপর পড়ার এবং রাস্তাঘাট বিলীন হওয়ার চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয়রা জানান, এই জনস্বার্থবিরোধী ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজের প্রতিবাদ করতে গেলে চক্রটি দোকানে বসে প্রকাশ্যে হুমকি-ধমকি প্রদান করে। অভিযুক্ত মনির, জাহিদ ও আনোয়ার হোসেনের তিন ছেলে এলাকায় প্রভাবশালী হওয়ায় সাধারণ মানুষ মুখ খুলতেও ভয় পাচ্ছেন।

এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য স্থানীয় পরিবেশ অধিদপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি। ফলে পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে স্থানীয়দের মনে নানা ক্ষোভ ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

অবৈধভাবে পাহাড় কাটার ফলে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি এবং জননিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ায় পরিবেশবাদী ও স্থানীয় সচেতন মহল ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অবিলম্বে এই ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় কাটা বন্ধ করতে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *