কামরুল ইসলাম:
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার নয় ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় চুরি ও ডাকাতির ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় প্রতিদিনই উপজেলার কোনো না কোনো এলাকায় চুরি, ডাকাতি কিংবা দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটছে। এতে সন্ধ্যার পর থেকেই অনেক পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চোর-ডাকাতের আতঙ্কে অনেকের স্বাভাবিক ঘুমও হারাম হয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, একের পর এক চুরি ও ডাকাতির ঘটনা ঘটলেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সাধারণ মানুষ যখন নিজেদের বাড়িঘর ও সম্পদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন, তখন পুলিশের ভূমিকা আরও সক্রিয় হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, রাতে অনেক পরিবার আতঙ্কের মধ্যে সময় কাটাচ্ছে। অপরিচিত কাউকে এলাকায় দেখা গেলে কিংবা সামান্য শব্দ হলেই চোর-ডাকাতের আশঙ্কায় আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন বাসিন্দারা। বিশেষ করে প্রত্যন্ত ও অপেক্ষাকৃত নির্জন এলাকার মানুষের মধ্যে এই ভয় আরও বেশি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
চুরি-ডাকাতির ঘটনা নিয়ে গণমাধ্যমে লেখালেখি হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর তৎপরতা কতটা বাড়ছে—এ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, শুধু ঘটনার পর মামলা বা তদন্ত নয়, চুরি-ডাকাতি প্রতিরোধে নিয়মিত টহল, সন্দেহজনক ব্যক্তিদের ওপর নজরদারি এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা প্রয়োজন।
স্থানীয়দের কেউ কেউ বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে অতীতের ভয়াবহ সময়ের তুলনা করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আতঙ্কে মানুষ রাতের বেলায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগত। বর্তমানে চোর-ডাকাতের আতঙ্কে অনেকটা একই ধরনের ভয় তৈরি হয়েছে বলে তারা মনে করছেন। তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন—নিজেদের নিরাপত্তার জন্য সাধারণ মানুষকে কি আবারও নিজেরাই প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে? যদি তাই হয়, তাহলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব কী?
এলাকাবাসী আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা পুলিশের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। তাই চুরি-ডাকাতির মতো অপরাধ ঠেকাতে পুলিশের দৃশ্যমান তৎপরতা বাড়ানো জরুরি। একই সঙ্গে অপরাধী চক্র শনাক্ত করে তাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ শাহজাহান চৌধুরীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে স্থানীয়রা বলেন, লোহাগাড়া ও সাতকানিয়ার মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। তাদের অভিযোগ, সাধারণ মানুষ যখন চোর-ডাকাতের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন, তখন জনপ্রতিনিধি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে আরও দৃশ্যমান পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন তারা।
স্থানীয়দের পক্ষ থেকে সংসদ সদস্য মোঃ শাহজাহান চৌধুরীর কাছে বিনীত অনুরোধ জানিয়ে বলা হয়েছে, লোহাগাড়া ও সাতকানিয়া উপজেলার মানুষের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে উদ্যোগী করা হোক।
এলাকাবাসীর প্রশ্ন, চুরি-ডাকাতির অভিযোগ ও আতঙ্কের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দিন কবে আসবে? সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে লোহাগাড়া ও সাতকানিয়ায় পুলিশের তৎপরতা আরও জোরদার হবে—এমন প্রত্যাশাই এখন স্থানীয় বাসিন্দাদের।