কামরুল ইসলাম:
চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার আধুনগর ইউনিয়নের খাঁনহাট বাজারে গভীর রাতে তিনটি দোকান লুটের অভিযোগ উঠেছে। গত জুমার নামাজের পর দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটে। দুর্বৃত্তরা দোকানগুলোর মালামাল লুট করে নেওয়ার পাশাপাশি পুরো দোকানই তুলে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা। এতে প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি তাঁদের। এলাকাবাসীর অভিযোগ, গত এক সপ্তাহের মধ্যে লোহাগাড়া থানা এলাকায় একের পর এক লুটের ঘটনা ঘটলেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে পুলিশের দৃশ্যমান তৎপরতা নেই। এর আগে সাংবাদিক ফরহাদের বাড়িতে লুটের ঘটনা ঘটেছে বলেও স্থানীয়রা জানান। বাড়ি লুটের পর এবার বাজারের তিনটি দোকান লুটের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা হলেন—আবুল কালামের মোবাইল ফোনের দোকান, জাহাঙ্গীর আলমের চায়ের দোকান এবং ওসমান গণির পানের দোকানের মালিকরা। ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম জানান, প্রতিদিনের মতো ঘটনার রাতে দোকান বন্ধ করে তিনি বাড়িতে চলে যান। পরদিন শনিবার সকালে বাজারে এসে তিনি দেখতে পান, তাঁর দোকানের কোনো অস্তিত্ব নেই। দোকানের মালামালসহ পুরো স্থাপনাটি দুর্বৃত্তরা তুলে নিয়ে গেছে। জাহাঙ্গীর আলম বলেন, তাঁর পাশের আবুল কালামের মোবাইল ফোনের দোকান এবং ওসমান গণির পানের দোকানেও একই ঘটনা ঘটেছে। তিনটি দোকান থেকেই মালামাল নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি দোকানের কাঠামোও তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এতে তাঁদের দীর্ঘদিনের ব্যবসা এক রাতেই শেষ হয়ে গেছে বলে জানান তিনি।
দোকানের মালিক মোহাম্মদ মহসিন জানান, পৈত্রিক জায়গায় প্রায় ৩০ বছর ধরে দোকান করে তিনি তা ভাড়া দিয়ে আসছেন। কিন্তু গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা পাশাপাশি তিনটি দোকানই তুলে নিয়ে গেছে। এমন ঘটনায় ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, ঘটনাটি জানার পর প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করা হলেও এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়েনি। এলাকাবাসী বলেন, ‘যেখানে সাংবাদিক পরিবারেরই কোনো নিরাপত্তা নেই, সেখানে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কতটুকু—এটাই এখন বড় প্রশ্ন।’ তাঁদের অভিযোগ, এলাকায় একের পর এক চুরি ও লুটের ঘটনা ঘটলেও অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার ক্ষেত্রে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।
এ বিষয়ে লোহাগাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ জানান, তিনটি দোকান লুটের ঘটনায় থানায় এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি। তবে সাংবাদিক ফরহাদের বাড়িতে লুটের ঘটনায় থানায় অভিযোগ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের দাবি, অভিযোগের পরও এখন পর্যন্ত পুলিশের কার্যকর তৎপরতা দৃশ্যমান হয়নি। এদিকে দোকান লুটের খবর পেয়ে লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁরা আইনের আশ্রয় নিলে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন। পরপর বাড়ি ও দোকান লুটের ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। দ্রুত ঘটনাগুলোর তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। পাশাপাশি বাজার ও আশপাশের এলাকায় রাতে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারেরও দাবি উঠেছে।