বিনোদন ডেস্ক:
শৈশবের দিনগুলো তাঁর কাছে ছিল আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তায় ভরা। দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় রক ব্যান্ড জাউরিমের ভোকালিস্ট কিম ইউন-আহ জানিয়েছেন, ছোটবেলায় বাবার হাতে নিয়মিত নির্যাতনের শিকার হয়েছেন তিনি। শুধু কিম নন, পরিবারের অন্য সদস্যরাও তাঁর বাবার সহিংস আচরণের শিকার হয়েছিলেন বলে জানান এই গায়িকা।
রোববার ইবিএসের তথ্যচিত্র সিরিজ ‘সিদায়ে মোকগিয়ক’-এর একটি পর্বে নিজের শৈশবের সেই কঠিন সময়ের স্মৃতিচারণ করেন কিম ইউন-আহ। তিনি জানান, ছোটবেলায় সব সময় এক ধরনের আতঙ্কের মধ্যে থাকতেন। তাঁর মনে হতো, যেকোনো সময় কিছু একটা ঘটে যেতে পারে।
কিমের ভাষ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় বা তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময় একদিন বাসন ধোয়ার পর সব সাবান ভালোভাবে পরিষ্কার না করায় বাবা তাঁকে মারধর করেন। বয়স কম হওয়ায় ঘরের কাজ পুরোপুরি ঠিকভাবে করতে না পারাটা স্বাভাবিক হলেও তখন বিষয়টি নিয়ে নিজেকেই দোষী মনে করেছিলেন তিনি।
কিম বলেন, বাবার আচরণের কোনো নির্দিষ্ট কারণ ছিল না। কখন তিনি রেগে যাবেন বা কী ঘটতে পারে—তা আগে থেকে বোঝার কোনো উপায় ছিল না। ফলে শৈশবজুড়ে তাঁকে অনিশ্চয়তা ও ভয় নিয়ে থাকতে হয়েছে।
নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে কিম ইউন-আহ বলেন, তাঁর জন্মদাতা বাবা অত্যন্ত সহিংস ছিলেন এবং পরিবারের প্রত্যেক সদস্যই তাঁর নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। বাবার মৃত্যুর পরও সেই সময়ের স্মৃতি তাঁকে ভাবিয়েছে।
কিমের ভাষায়, বাবার প্রতি ঘৃণাই একসময় তাঁর গান তৈরির অন্যতম চালিকা শক্তি হয়ে উঠেছিল। বাবা মারা যাওয়ার পর তিনি নিজেকেই প্রশ্ন করেছিলেন—যে মানুষটিকে ঘৃণা করেই এতদিন গান তৈরি করেছেন, সেই মানুষটি না থাকলে এখন তিনি কী নিয়ে গান করবেন।
এর আগে ২০২২ সালের ৭ জানুয়ারি চ্যানেল এ-এর ‘ড. ওহস গোল্ডেন ক্লিনিক’ অনুষ্ঠানেও বাবার নির্যাতনের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করেছিলেন কিম। তখন তিনি জানিয়েছিলেন, তাঁর বাবা কাঠমিস্ত্রির দোকান থেকে বিভিন্ন দৈর্ঘ্য ও পুরুত্বের কাঠের লাঠি বানিয়ে আনতেন।
শৈশবের সেই সময়ের অনেক স্মৃতিই এখন আর তাঁর স্পষ্টভাবে মনে নেই। কিম জানান, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ার সময়ের অনেক ঘটনা তাঁর স্মৃতি থেকে হারিয়ে গেছে। তিনি সব সময় একধরনের ঘোরের মধ্যে থাকতেন এবং গান ও বইয়ের মধ্যে আশ্রয় খুঁজে নিতেন।
১৯৯৭ সালে জাউরিমের প্রথম অ্যালবামের মাধ্যমে সংগীতজগতে অভিষেক হয় কিম ইউন-আহর। ব্যান্ডটির জনপ্রিয় গানগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘ফলিং ফ্লাওয়ার’, ‘ম্যাজিক কার্পেট রাইড’, ‘সং অব হা হা হা’ এবং ‘টুয়েন্টি-ফাইভ, টুয়েন্টি-ওয়ান’।