সততার সঙ্গে ওএমএস কার্যক্রম তদারকিতে কাজী মোহাম্মদ ইব্রাহীম

স্টাফ রিপোর্টার:

ঢাকার ডি-৩ (D-3) এলাকায় সরকারের ওপেন মার্কেট সেল (ওএমএস) কার্যক্রমের তদারকিতে সততা ও নিষ্ঠার পরিচয় দিয়ে দায়িত্ব পালন করছেন তদারককারী কর্মকর্তা কাজী মোহাম্মদ ইব্রাহীম। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, তাঁর নিয়মিত উপস্থিতি ও কঠোর নজরদারির কারণে ওএমএসের খাদ্যপণ্য বিতরণে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং নিম্নআয়ের মানুষেরা নির্ধারিত মূল্যে পণ্য কিনতে পারছেন।

জানা যায়, অতীতে দেশের বিভিন্ন স্থানে ওএমএস ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় খাদ্যপণ্য বিতরণ নিয়ে নানা ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। কোথাও কোথাও ডিলারদের বিরুদ্ধে নির্ধারিত পরিমাণের কম পণ্য বিতরণ, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি কিংবা পণ্য শেষ হওয়ার আগেই বিক্রি শেষ হওয়ার ঘোষণা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এসব অভিযোগে সরকারি কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সম্পৃক্ততার কথাও বিভিন্ন সময় আলোচনায় এসেছে।

তবে স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ঢাকার ডি-৩ এলাকায় এ চিত্র অনেকটাই ভিন্ন। তারা জানান, কাজী মোহাম্মদ ইব্রাহীম প্রতিদিন সকাল থেকেই ওএমএস ট্রাকের কার্যক্রম তদারকি করেন। ট্রাক পৌঁছানোর পর থেকেই তিনি বিক্রয় কার্যক্রমের শুরুতে উপস্থিত থাকেন এবং খাদ্যপণ্য বিতরণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করেন। তাঁর উপস্থিতির কারণে ডিলাররা নিয়ম মেনে পণ্য বিক্রি করতে বাধ্য হন বলে দাবি করেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় কয়েকজন উপকারভোগী বলেন, আগে অনেক সময় ডিলাররা পর্যাপ্ত পণ্য থাকা সত্ত্বেও দ্রুত বিক্রি শেষ হওয়ার ঘোষণা দিতেন। কিন্তু বর্তমানে কাজী মোহাম্মদ ইব্রাহীম সরাসরি তদারকি করায় এ ধরনের অভিযোগ অনেকটাই কমে এসেছে। ফলে প্রকৃত উপকারভোগীরা নির্ধারিত দামে চাল, আটা ও অন্যান্য খাদ্যপণ্য সংগ্রহের সুযোগ পাচ্ছেন।

তাদের অভিযোগ, কিছু এলাকায় এখনো এমন তদারককারী রয়েছেন যারা মাঠে উপস্থিত না থেকে দূর থেকেই দায়িত্ব পালন করেন। এতে ডিলারদের অনিয়ম করার সুযোগ তৈরি হয়। তবে কাজী মোহাম্মদ ইব্রাহীমের ক্ষেত্রে তারা সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র দেখেছেন বলে জানান।

এ বিষয়ে কাজী মোহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, “সরকারি দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করাই আমার প্রধান দায়িত্ব। জনগণের সেবা করতেই আমি সরকারি চাকরিতে এসেছি। আমি সবসময় চাই, সরকারের দেওয়া সুবিধা যেন প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছে যায়। আমি ঢাকার স্থায়ী বাসিন্দা। আল্লাহর রহমতে পারিবারিকভাবে যা আছে, তা দিয়েই আমাদের চলে। তাই দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনিয়ম বা অসততার সঙ্গে আপস করার প্রশ্নই আসে না।”

তিনি আরও বলেন, মাঠপর্যায়ে নিয়মিত উপস্থিত থেকে ওএমএস কার্যক্রম তদারকি করলে অনিয়মের সুযোগ কমে যায় এবং সাধারণ মানুষ তাদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিতভাবে পেয়ে থাকেন।

ডি-৩ এলাকার বেশ কয়েকজন নিম্নআয়ের বাসিন্দা বলেন, কাজী মোহাম্মদ ইব্রাহীম দায়িত্বে থাকলে তারা নির্ধারিত পরিমাণ খাদ্যপণ্য সহজেই পান। তাঁর উপস্থিতির কারণে ডিলাররা নিয়ম মেনে বিক্রি করেন এবং সাধারণ মানুষকে হয়রানির সুযোগ পান না।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, ওএমএসসহ সরকারের অন্যান্য জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিতেও এ ধরনের সৎ, দায়িত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক তদারকি নিশ্চিত করা হলে অনিয়ম কমবে এবং সরকারের সেবার সুফল প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে আরও কার্যকরভাবে পৌঁছাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *