নিজস্ব প্রতিবেদক:
সাইবার আইন নিয়ে সাংবাদিকদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, অতীতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারার অপব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই নতুন আইন প্রণয়নের কাজ চলছে। এ বিষয়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত নেওয়া হচ্ছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় ও জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘এজিও–ইউএনডিপি ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রাম’-এর দ্বিতীয় ব্যাচের সমাপনী ও তৃতীয় ব্যাচের ইন্টার্নদের বরণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, সাইবার আইন নিয়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে জনমত গ্রহণ চলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপব্যবহার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে মানুষের ক্ষতি করার প্রবণতা থেকে সাধারণ মানুষকে সুরক্ষা দিতে একটি আইনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রায় সবাই একমত হয়েছেন।
তবে আইনের ভাষা ও কাঠামো কেমন হবে, তা নিয়ে বিভিন্ন পক্ষ থেকে মতামত আসছে। এসব মতামত পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আইনটি এখনো প্রাথমিক খসড়া পর্যায়ে রয়েছে; চূড়ান্ত খসড়া প্রণয়নের কাজ শুরু হয়নি বলেও জানান তিনি।
সাংবাদিকদের উদ্বেগের বিষয়ে আশ্বস্ত করে আসাদুজ্জামান বলেন, তাঁদের মতামত ও উদ্বেগকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সাংবাদিকরা যাতে কোনো আইনের অপব্যবহারের শিকার না হন, সে বিষয়টি অগ্রাধিকার পাচ্ছে।
তিনি বলেন, অতীতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও ৫৭ ধারার অপব্যবহারের অভিজ্ঞতা সরকার বিবেচনায় রাখছে। সংশ্লিষ্ট সবার মতামত নিয়েই নতুন আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।
বিচার বিভাগের পৃথক সচিবালয় ও প্রবাসীদের আইনি সহায়তা
বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় গঠনের বিষয়ে আইনমন্ত্রী জানান, বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। যেহেতু এর সঙ্গে সংবিধানের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে, তাই সংবিধান সংস্কার কমিটিও বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই এ উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়া হবে।
এ ছাড়া প্রবাসী শ্রমিকদের আইনি সহায়তা নিশ্চিত করতে বিশেষ আদালত গঠনের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য, প্রবাসীরা দেশে ফিরে যেন আইনি সহায়তা নিতে ভোগান্তিতে না পড়েন, সে জন্য এক জায়গা থেকে ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’-এর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনি প্রতিকার দেওয়ার বিষয়টি সরকার বিবেচনা করছে।