সাতক্ষীরায় ঘের থেকে মোটর ও পাইপ চুরির অভিযোগ

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:

সাতক্ষীরা পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের রইসপুর গ্রামে একটি মৎস্যঘের থেকে মোটর ও নাইনটি পাইপ চুরির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত হিসেবে একই গ্রামের বাসিন্দা মো. মিজানুর রহমান (মিজান)-এর বিরুদ্ধে সাতক্ষীরা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৪ জুলাই ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ১১টার দিকে ইটাগাছা গ্রামের মো. আব্দুর রশিদের রইসপুর এলাকায় অবস্থিত মৎস্যঘের থেকে একটি মোটর ও নাইনটি পাইপ চুরি হয়ে যায়। পরে ঘটনাটি তদন্ত করে তিনি একই গ্রামের মো. আবুল কাশেমের ছেলে মো. মিজানুর রহমান মিজানের বিরুদ্ধে সাতক্ষীরা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা, যারা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, দাবি করেন যে অভিযুক্ত মিজানের বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন ব্যক্তির মৎস্যঘের থেকে মোটর, যন্ত্রপাতি ও মাছ চুরির অভিযোগ রয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, একই গ্রামের মৃত আকাতুল্লাহর ছেলে মো. লেয়াকাত, মৃত অমর আলীর ছেলে আব্দুল হাই, আব্দুল মজিদের ছেলে কামরুল ইসলামসহ আরও কয়েকজনের ঘের থেকেও বিভিন্ন সময় মোটর চুরির ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রায় ১৫ দিন আগে ঘেরের ভেড়ি নির্মাণকাজে ব্যবহৃত একটি ভেকু (খনন) মেশিনের ব্যাটারিও চুরি হয়। একইভাবে আব্দুর রহিমের ছেলে হাফিজুর ইসলামের ঘের থেকেও মোটর চুরির অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ বা অভিযোগ করলে তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে অভিযুক্তের পরিবারের সদস্যরাও তাকে সহযোগিতা করেন বলেও অভিযোগ করেন কয়েকজন বাসিন্দা। তাদের দাবি, রাতের বেলায় অভিযুক্ত বিভিন্ন মৎস্যঘেরে ঘোরাফেরা করেন এবং এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করেছেন।

এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, মোটর ও মাছ চুরির পাশাপাশি অতীতেও বিভিন্ন ঘেরে বিষ প্রয়োগ করে মাছ নিধনের ঘটনায় অভিযুক্তের নাম উঠে এসেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে ভুক্তভোগী নিশ্চিত করেছেন। এলাকাবাসী ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

অভিযুক্ত মো. মিজানুর রহমানের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *