নিজস্ব প্রতিবেদক : সাবেক কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাকের ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে পরিচয় দিয়ে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে মো. সবুজের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে তার স্ত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস ও মো. সবুজের বিরুদ্ধে রাজধানীর গুলশানে এক শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তির ফ্ল্যাট দখলের চেষ্টা, চুক্তিভঙ্গ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং প্রায় ২ কোটি টাকা দাবির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, জান্নাতুল ফেরদৌস ও তার স্বামী মো. সবুজ ফ্ল্যাটটি বন্ধক (Mortgage) রেখে ঋণের ব্যবস্থা করে দেওয়ার এবং পরবর্তীতে চুক্তি অনুযায়ী ফ্ল্যাটের দখল বুঝিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। তাদের প্রতিশ্রুতিতে সরল বিশ্বাসে ভুক্তভোগী জান্নাতুল ফেরদৌসের সঙ্গে চুক্তি করেন এবং বিভিন্ন স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করেন।
কিন্তু চুক্তি সম্পাদনের পর প্রতিশ্রুত অর্থ প্রদান না করে উল্টো ওই চুক্তি ও স্বাক্ষর করা স্ট্যাম্পকে ব্যবহার করে ফ্ল্যাটের ওপর নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী।
ভুক্তভোগীর দাবি, তিনি শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় তার অসহায়ত্বের সুযোগ নেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন সময় তাকে চাপ প্রয়োগ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং মামলা-মোকদ্দমার ভয় দেখানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এব্যপারে ভূক্ত ভুগী থানা একটি জিডি করেন যাহা-১৪০১ । তা ছাড়ও তাদের বিরুদ্ধে আইনি নোটিশ করা হয়- যা ৭/৭/২৪ এবং ১৪/৭/২০২৪ইং প্রেরণ করা হয়।
একপর্যায়ে তার কাছে দেড় কোটি টাকা দাবি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। টাকা না দিলে তার সম্পত্তি ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে সমস্যা সৃষ্টি করা হবে—এমন আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন তিনি।
অভিযোগকারী দাবি করেছেন, মো. সবুজ নিজেকে সাবেক কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাকের ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে পরিচয় দিয়ে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করতেন। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময়ও তিনি তৎকালীন সরকারের পক্ষে মাঠপর্যায়ে সক্রিয় ছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
তবে সবুজের রাজনৈতিক ভূমিকা, সাবেক মন্ত্রীর সঙ্গে তার সম্পর্ক এবং এসব পরিচয় ব্যবহার করে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ভুক্তভোগীর ভাষ্য, গুলশানের ফ্ল্যাটটি তার সম্পত্তি এবং সেটিকে কেন্দ্র করেই মূল বিরোধের সৃষ্টি। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী অর্থ প্রদান না করেও ফ্ল্যাটের ওপর দাবি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তার।
তিনি সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের কাছে চুক্তিপত্র, স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর, আর্থিক লেনদেন, ফ্ল্যাটের মালিকানার কাগজপত্র এবং কথিত হুমকির বিষয় তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
জান্নাতুল ফেরদৌস ও মো. সবুজের বিরুদ্ধে উত্থাপিত এসব অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।