মোঃআনজার শাহ
কৃষকের জন্য বরাদ্দকৃত সার কালোবাজারে বিক্রি করলে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা হবে এবং দোষী ব্যক্তিকে কারাগারে যেতে হবে—এমন কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন পিপিএম। এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, সার নিয়ে কোনো ধরনের দুর্নীতি, অনিয়ম বা সিন্ডিকেটের লীলা আর বরদাশত করা হবে না।
দেশবাসীকে শুরুতেই সালাম জানিয়ে সালাউদ্দিন বলেন, একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের পর থেকেই কৃষকের স্বার্থ রক্ষায় নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মূল নির্দেশনাই হলো সারের সংকটে কৃষক যেন কোনোভাবেই ভোগান্তিতে না পড়েন।
সার-সংকটের পুরোনো ইতিহাস স্মরণ করিয়ে তিনি বলেন, ২০০১ সালে জামায়াতে ইসলামীর তৎকালীন আমির মতিউর রহমান নিজামী কৃষিমন্ত্রী থাকাকালে গাফিলতির কারণে একটি দুর্ঘটনা ঘটেছিল; সেখানে কয়েকজনের প্রাণহানি হয়। ওই ঘটনায় তিনি ও তাঁর দল দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন বলেও জানান তিনি।
আওয়ামী লীগ আমলকে ‘ফ্যাসিস্ট’ শাসন বলে অভিহিত করে সালাউদ্দিন অভিযোগ করেন, তখন ডিলার নিয়োগ থেকে শুরু করে অফিস-আদালতের প্রতিটি স্তরে দুর্নীতির বিস্তার ঘটেছিল এবং কৃষকেরা ন্যায্য সার পাননি। এবার অবশ্য প্রধানমন্ত্রী নিজেই ডিলারশিপ ও সার-ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলো তদারকি করছেন বলে দাবি করেন তিনি।
গত ১১ সেপ্টেম্বর দৈনিক যুগান্তরে সার ডিলার নিয়োগে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ নিয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে সালাউদ্দিন বলেন, তাঁর নিজ এলাকা পাবনার সাঁথিয়ায় ডিলার নিয়োগে কোনো দুর্নীতি হয়নি। তাঁর এক আত্মীয় আবেদন করলেও তাঁকে অনৈতিক সুযোগ দেওয়া হয়নি।
তাঁর ভাষ্যে, দুর্নীতির পথে ডিলার হওয়ার চেষ্টা করা কেউই সাঁথিয়ায় জায়গা পাননি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ডিলারশিপ কোনো ব্যক্তিগত সম্পদ নয়; এটি কৃষকের সেবার একটি দায়িত্ব।
সারা দেশে নিয়োগপ্রাপ্ত ডিলারদের উদ্দেশে সালাউদ্দিন বলেন, সার নিয়ে কালোবাজারির কোনো সুযোগ থাকবে না। যে সার আসবে, তা সুষমভাবে বণ্টনের জন্য কমিটি গঠন করা হবে। এ ব্যাপারে তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিশেষ নজরদারির অনুরোধও জানান।
তিনি স্পষ্ট করেন, বিএনপির নেতা-কর্মী, ব্যবসায়ী বা অন্য যে-ই ডিলারশিপ পান না কেন, অনিয়মের প্রমাণ মিললে দলীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং তাঁকে আইনের আওতায় আনা হবে। কৃষিমন্ত্রীও এ বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে আছেন বলে জানান তিনি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীরাও তদারকির আওতায় থাকবেন বলে জানান সালাউদ্দিন। তিনি বলেন, নিয়ম অনুযায়ী পরিবহন ও আনুষঙ্গিক খরচ বাদ দিয়ে ডিলাররা যে ন্যায্য মুনাফা পাবেন, তাতেই তাঁদের সন্তুষ্ট থাকতে হবে।
সালাউদ্দিন জানান, ডিলারদের কার্যক্রমে নজর রাখছে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা (এনএসআই), প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই), সীমান্তরক্ষী বাহিনী (এসবি) এবং স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ঢাকায় অনিয়ম কঠোর হাতে দমনে প্রধানমন্ত্রী নিজেই কৃষি মন্ত্রণালয়ে গিয়ে খোঁজখবর নিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
সার-ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম রোধে সরকার ইতিমধ্যে দেশের ৬৪ জেলায় মনিটরিং সেল গঠন করেছে এবং সেগুলোর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সরকারের বক্তব্যে, কৃষকের দোরগোড়ায় সার পৌঁছাতে প্রায় ৮ হাজার নতুন ডিলার নিয়োগের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
বার্তার শেষ প্রান্তে সালাউদ্দিন বলেন, দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ কৃষির সঙ্গে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে জড়িত। যেসব প্রান্তিক কৃষক সামর্থ্যের অভাবে জমিতে পর্যাপ্ত সার দিতে পারতেন না, তাঁদের জন্য এবার রয়েছে বড় সুখবর।
তিনি বলেন, কৃষকের মুখে হাসি ফোটানো এবং মাঠে ফসলের স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দেওয়াই এই সার-ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য। কেউ যদি এই পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়, আইনের হাত থেকে তিনি রক্ষা পাবেন না।