নিজস্ব প্রতিবেদক:
চিত্রনায়ক মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় আবারও বাড়ানো হয়েছে। আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর প্রতিবেদন দাখিলের নতুন দিন ধার্য করেছেন আদালত।
রোববার (৩০ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালতে এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। তবে তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রতিবেদন দাখিল করতে না পারায় আদালত নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।
মামলায় সালমান শাহকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। তার স্ত্রী সামীরা হক, সামীরার মা লতিফা হক লুছি, চলচ্চিত্র অভিনেতা আশরাফুল হক ডনসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে এ মামলা করা হয়েছে।
আদালতে প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক শাহ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে গত ২০ মে সালমান শাহের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে তার মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। পরে ২৪ মে মরদেহ উত্তোলন করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও ময়নাতদন্তের অনুমতি দেন আদালত।
তবে বাদীপক্ষ লাশ উত্তোলনের আদেশ বাতিল চেয়ে আবেদন করে। আদালত আবেদনটি নথিভুক্ত করেন। পরে গত ২২ জুন দেহাবশেষ উত্তোলনের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহাকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
মামলার পটভূমি
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর নিউ ইস্কাটনের বাসায় মারা যান চিত্রনায়ক সালমান শাহ। ওই ঘটনায় তার বাবা প্রয়াত কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী অপমৃত্যুর মামলা করেন। পরে ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ করে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন করেন তিনি।
আদালতের নির্দেশে মামলাটি তদন্ত করে সিআইডি। ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর দেওয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সালমান শাহের মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করা হয়। পরে সিআইডির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে রিভিশন মামলা করেন তার বাবা।
সর্বশেষ গত ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক বাদীপক্ষের রিভিশন মঞ্জুর করে মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২১ অক্টোবর রমনা থানায় হত্যা মামলা করেন সালমান শাহের মামা মোহাম্মদ আলমগীর।
মামলায় সামীরা হকসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাতপরিচয় আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে সালমান শাহকে হত্যার অভিযোগ এনে বলা হয়, মৃত্যুর দিন তার পরিবারের সদস্যরা নিউ ইস্কাটনের বাসায় গিয়ে তাকে শয়নকক্ষে নিথর অবস্থায় দেখতে পান। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মামলার বাদীপক্ষের দাবি, সালমান শাহের মৃত্যুর ঘটনায় শুরু থেকেই হত্যার সন্দেহ ছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে পুনরায় গ্রহণ করা হয়েছে।