সিকিউরিটি সার্ভিসে চাকরির নামে উত্তরায় প্রতারণা

স্টাফ রিপোর্টার:

রাজধানীর উত্তরায় সিকিউরিটি সার্ভিসে চাকরি দেওয়ার নামে বেকার যুবকদের কাছ থেকে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে। আকর্ষণীয় বেতন, থাকা-খাওয়ার সুবিধা এবং স্বল্প সময়ের ডিউটির কথা বলে চাকরিপ্রার্থীদের আকৃষ্ট করে বিভিন্ন ধাপে টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। সরেজমিনে অনুসন্ধানে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, রাজধানীর উত্তরা হাউজবিল্ডিং, আব্দুল্লাহপুর ও আজমপুর এলাকার বিভিন্ন গলিতে ‘জরুরি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি’ লাগিয়ে চাকরিপ্রার্থীদের আকৃষ্ট করা হয়। এসব বিজ্ঞাপনে সিকিউরিটি গার্ড, সুপারভাইজার ও সহকারী সুপারভাইজার পদে লোক নিয়োগের কথা উল্লেখ করা থাকে। বিজ্ঞাপনে আকর্ষণীয় বেতন, থাকা-খাওয়ার সুবিধা এবং আট ঘণ্টা ডিউটির সুযোগের কথা বলা হয়। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে কোনো অভিজ্ঞতা ছাড়াই চাকরির সুযোগ দেওয়ার কথা উল্লেখ থাকে।

চাকরির আশায় বিজ্ঞাপনে দেওয়া ঠিকানায় যোগাযোগ করলে প্রার্থীদের বিভিন্ন ধরনের আশ্বাস দেওয়া হয়। প্রথমে আবেদন বা ফরম পূরণের নামে ২০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর চাকরি নিশ্চিত করার কথা বলে পর্যায়ক্রমে ট্রেনিং ফি, পোশাক ও আইডি কার্ডের জন্য টাকা দাবি করা হয়। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এভাবে একজন চাকরিপ্রার্থীর কাছ থেকে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে।

টাকা নেওয়ার পর অনেককে একটি নিয়োগপত্র দেওয়া হয়। এরপর কয়েকদিন বিভিন্নভাবে ঘোরানো হয় বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। চাকরিতে যোগদানের জন্য পরবর্তী তারিখ দেওয়া হলেও নির্ধারিত সময়ে অফিসে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায় না। পরে সংশ্লিষ্ট নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায় বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।

এক ভুক্তভোগী বলেন, পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেখে তিনি উত্তরায় চাকরির জন্য আসেন। তাকে ১৭ হাজার টাকা বেতনে সিকিউরিটি সার্ভিসে চাকরি দেওয়ার কথা বলা হয়। পরে ইউনিফর্ম ও ট্রেনিংয়ের কথা বলে তার কাছ থেকে ৮ হাজার টাকা নেওয়া হয়। টাকা দেওয়ার পর থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আর যোগাযোগ করতে পারছেন না বলে জানান তিনি।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, চাকরির প্রয়োজন ও বেকারত্বের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে প্রতারকরা প্রথমে চাকরির প্রলোভন দেখায়। পরে চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে বিভিন্ন খাতে টাকা নেওয়া হয়। টাকা নেওয়ার পর চাকরিতে যোগদানের বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হয় অথবা নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা হয়।

এ বিষয়ে উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ জানায়, এ ধরনের প্রতারণার অভিযোগ আগেও পাওয়া গেছে। কয়েকটি চক্রের বিরুদ্ধে অভিযানও চালানো হয়েছে। চাকরির নামে প্রতারণার শিকার ব্যক্তিদের লিখিত অভিযোগ দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চাকরিপ্রার্থীদের কোনো প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের আগে প্রতিষ্ঠানটির বৈধতা ও ঠিকানা যাচাই করা প্রয়োজন। বিশেষ করে চাকরির আগে বিভিন্ন অজুহাতে টাকা দাবি করা হলে সতর্ক হওয়া উচিত। যাচাই-বাছাই না করে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে টাকা লেনদেন না করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

চাকরিপ্রার্থীরা বলছেন, বেকারত্বের সুযোগ নিয়ে এ ধরনের প্রতারণা বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও আইনগত ব্যবস্থা প্রয়োজন। পাশাপাশি চাকরির বিজ্ঞাপন দেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও নিয়োগ প্রক্রিয়ার বৈধতা যাচাই করা জরুরি বলেও মনে করছেন তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *