মোঃ ফেরদৌস হোসেন:
সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার মকন্দগাতি এলাকার চালা কালিবাড়ি হাট রোডে অবস্থিত একাধিক প্রসেস ও মার্চেন্ডাইজিং মিলের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে পরিচালনা, পরিবেশ দূষণ এবং অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন ছাড়াই এসব মিল কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, মিলগুলোর বর্জ্য পানি সরাসরি নদীতে ফেলা হচ্ছে। এতে নদীর পানি দূষিত হয়ে পড়েছে। নদীতে গোসল, মাছ ধরা, এমনকি গবাদিপশু নামানোও কঠিন হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাদের ভাষ্য, নদীতে এখন আর মাছ হয় না, পানিতে তীব্র দুর্গন্ধ; মানুষ নামতে পারে না।
স্থানীয়দের আরও দাবি, আশপাশের টিউবওয়েলের পানিতেও দুর্গন্ধ ছড়িয়েছে। অনেকেই সেই পানি ব্যবহার করতে পারছেন না। দীর্ঘমেয়াদি দূষণের ফলে জনস্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
এলাকায় যেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—
১) চৌধুরী মার্চেন্ডাইজিং মিল (প্রাঃ শ্রী অসিত কুমার চৌধুরী), ২) মেসার্স ইভান অ্যান্ড পরিশাহ মার্চেন্ডাইজিং (প্রাঃ মোঃ এমদাদুল হক লিটন),৩) মেসার্স ন্যাশনাল মার্চেন্ডাইজিং মিল (প্রাঃ হাজী এম. মজনু খান),
৪) মেসার্স একতা ডাইং (প্রাঃ মোঃ সাইফুল ইসলাম) ও ৫) মেসার্স শাহজালাল প্রসেস মিল (প্রাঃ হাসান সরকার)
স্থানীয় সূত্রে আরও অভিযোগ পাওয়া গেছে, প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তাকে নিয়মিত অর্থ প্রদান করে এসব মিল পরিচালিত হচ্ছে।
তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। পরিবেশ অধিদপ্তর, উপজেলা প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা। একই সঙ্গে দূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অবৈধ কার্যক্রম বন্ধের জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
মেসার্স একতা ডাইংয়ের প্রোপ্রাইটর মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, থানা ওসি, সার্কেল এসপিসহ সবাইকে টাকা দিয়ে ম্যানেজ করে চলি। কয়েক মাসের মধ্যে ৬০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ৩০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছিল এবং নতুন সার্কেল এসপি আসার পর আবার ৩০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, নদীতে মাছ হয় না, তবুও লিস্ট দেওয়া হয়। এজন্য বছরে অনেক টাকা, যারা লিস্ট নেয় তাদের দিতে হয়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) অফিস থেকে কোনো বিশেষ দিনে চিঠি দিয়ে সেই অনুষ্ঠানে আমাদের প্রসেস মিলের সভাপতির মাধ্যমে টাকা প্রদান করতে হয়।
আমাদের প্রসেস মিলের সভাপতি হাজী মজিদের মাধ্যমে সব সেক্টরে টাকা দেওয়া হয়ে থাকে।
এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর, সিরাজগঞ্জের সহকারী পরিচালক তুহিন আলম বলেন, ওই এলাকায় দুই-একটি প্রসেস মিলের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এছাড়া যেসব প্রসেস মিল এখনও অবৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছে, সেগুলোর বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।