সিরাতে রাসূলের আলোকে আত্মশুদ্ধি ও মানবিক মূল্যবোধ চর্চার আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) উপলক্ষে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে সিরাতে রাসূল (দ.)-এর আলোকে আত্মশুদ্ধি, মানবিক মূল্যবোধ ও আধ্যাত্মিক বিকাশের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বক্তারা। তাঁরা বলেছেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (দ.)-এর জীবনাদর্শ কেবল ধর্মীয় ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় নয়; বরং নৈতিক উৎকর্ষ, মানবিক মর্যাদা, সহমর্মিতা, সংযম ও আত্মশুদ্ধির এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাজধানীর এশিয়া হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে সুফি সেন্টারের আয়োজনে ‘সিরাতে রাসূল (দ.): আত্মশুদ্ধি, মানবিক মূল্যবোধ ও আধ্যাত্মিক বিকাশ’ শীর্ষক সেমিনার ও সুফি মেডিটেশনের ব্যবহারিক সেশন অনুষ্ঠিত হয়।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, সমকালীন সমাজে নৈতিক অবক্ষয়, অসহিষ্ণুতা, আত্মকেন্দ্রিকতা ও পারস্পরিক দূরত্ব ক্রমেই সামাজিক সম্পর্ক ও মানবিক মূল্যবোধকে দুর্বল করছে। এ পরিস্থিতিতে সিরাতে রাসূল (দ.)-এর মানবিক ও আধ্যাত্মিক শিক্ষাকে নতুনভাবে অনুধাবন এবং ব্যক্তিজীবনে তা বাস্তবায়ন করা জরুরি।
তাঁদের মতে, নববী আদর্শের প্রকৃত তাৎপর্য শুধু আলোচনা, বক্তৃতা কিংবা আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ব্যক্তির চরিত্র, চিন্তা, আচরণ ও জীবনাচরণে এর প্রতিফলন ঘটানোই হতে পারে সিরাতে রাসূল (দ.) থেকে শিক্ষা গ্রহণের প্রকৃত সার্থকতা।
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শাহ কাওসার মুস্তাফা আবুলউলায়ী।
সম্মানিত আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. আব্দুস সবুর খান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. ওসমান গনী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. মাসুম বাকী বিল্লাহ কাদেরী এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ রেজাউল হোসাইন।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর জজকোর্টের সদর আদালতের বিচারক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন, এশিয়া হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. জহিরুল ইসলাম এবং জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা, ঢাকার চেয়ারম্যান লায়ন নুরুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সুফি সেন্টারের পরিচালক খাজা ওসমান ফারুকী (খাজাজী)।
সেমিনারের পাশাপাশি খাজাজীর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত হয় সুফি মেডিটেশনের ব্যবহারিক সেশন। এতে অংশগ্রহণকারীদের আত্মসচেতনতা, অন্তর্মুখী মনন, মানসিক প্রশান্তি ও আত্মশুদ্ধির বিভিন্ন অনুশীলনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়।
আয়োজকদের ভাষ্য, নববী আদর্শের নৈতিক ও আধ্যাত্মিক শিক্ষার সঙ্গে আত্মশুদ্ধির অনুশীলনের সমন্বয় ব্যক্তি ও সমাজজীবনে ইতিবাচক পরিবর্তনের একটি কার্যকর ভিত্তি তৈরি করতে পারে। মানুষের বাহ্যিক উন্নয়নের পাশাপাশি অন্তর্জগতের পরিশুদ্ধিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
সভাপতির বক্তব্যে খাজাজী বলেন, সিরাতে রাসূল (দ.) নিয়ে আলোচনা শুধু আনুষ্ঠানিকতা কিংবা আবেগের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে এর প্রকৃত শিক্ষা মানুষের জীবন ও আচরণে প্রতিফলিত হবে না। আত্মশুদ্ধি, চরিত্রগঠন, মানবিকতা ও আধ্যাত্মিক অনুশীলনের মধ্য দিয়ে রাসুলুল্লাহ (দ.)-এর জীবনাদর্শ ধারণ করাই নবীজীবনের শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য।
তিনি বলেন, একজন মানুষের চিন্তা, চেতনা, নৈতিকতা ও আচরণের পরিশুদ্ধির মধ্য দিয়েই একটি সুস্থ, মানবিক ও মূল্যবোধসম্পন্ন সমাজ নির্মাণের ভিত্তি তৈরি হয়। তাই ব্যক্তির অন্তর্জগতের উন্নয়নকে গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি সমাজে সহমর্মিতা, সংযম, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ভূমিকা রাখতে হবে।
সেমিনারে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, শিক্ষক, গবেষক, চিকিৎসক, সংস্কৃতিসেবী, পেশাজীবী, সাংবাদিক এবং সুফি মেডিটেশন অনুশীলনকারীরা অংশগ্রহণ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *